বিশ্বকাপে চমক! নেপালকে ১০ উইকেটে হারাল ইতালি, মস্কা ভাইদের দাপট |টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬
নেপাল বনাম ইতালি, T20 বিশ্বকাপ ২০২৬: মস্কা জুটির ঝড়ে ১০ উইকেটের ঐতিহাসিক জয়
তারিখ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভেন্যু: ওয়ানখেড়ে স্টেডিয়াম, মুম্বাই
টুর্নামেন্ট: আইসিসি মেনস টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬
গ্রুপ: C | ম্যাচ নং ১৭
টস: ইতালি জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত
আইসিসি মেনস টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬–এর গ্রুপ C–তে প্রতিটি ম্যাচই ছিল সুপার–৮ নিশ্চিত করার লড়াই। সেই প্রেক্ষাপটে নেপাল বনাম ইতালি ম্যাচটি দুই দলের জন্যই ছিল টার্নিং পয়েন্ট। মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক ওয়ানখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ইতালি দেখিয়েছে পরিকল্পিত বোলিং, শৃঙ্খলাবদ্ধ ফিল্ডিং এবং বিস্ফোরক ব্যাটিং—যার ফল, মাত্র ১২.৪ ওভারেই ১০ উইকেটের দুর্দান্ত জয়।
নেপালের ইনিংস: শুরুতেই ধাক্কা, মাঝপথে ভাঙন
টসে হেরে ব্যাট করতে নামা নেপাল শুরু থেকেই ইতালির পেস ও ভ্যারিয়েশনের চাপে পড়ে। পাওয়ারপ্লেতেই টপ অর্ডারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে বসে দলটি। নিয়মিত উইকেট পতনের কারণে বড় পার্টনারশিপ গড়ে ওঠেনি—যা টি২০ ফরম্যাটে প্রতিযোগিতামূলক স্কোর গড়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্কোর: ১২৩ অলআউট (১৯.৩ ওভার)
ক্যাপ্টেন রোহিত পাওদেল ১৪ বলে ২৩ রানের একটি আক্রমণাত্মক ইনিংস খেললেও সেটি দীর্ঘায়িত হয়নি। মিডল অর্ডারও ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ইতালির শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিং লাইনআপ তাদের ছন্দে ফিরতে দেয়নি।
ইতালির হয়ে
ক্রিশান কালুগামাগে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচে প্রভাব বিস্তার করেন।
বেন মানেনতি মাত্র ২ রান খরচায় ২ উইকেট নিয়ে নেপালের ব্যাটিং ভেঙে দেন।
ওয়ানখেড়ের উইকেটে ১২৩ রান খুব বেশি না হলেও, নতুন বল কাজে লাগিয়ে শুরুতে উইকেট তুলতে পারলে ম্যাচে ফেরার সুযোগ ছিল নেপালের। কিন্তু তা আর হয়নি।
ইতালির রানতাড়া: মস্কা জুটির বিধ্বংসী প্রদর্শনী
টার্গেট: ১২৪ রান
টি২০ ক্রিকেটে ১২৪ রান সাধারণত চ্যালেঞ্জিং নয়, তবে বিশ্বকাপের চাপ সবসময় আলাদা। কিন্তু ইতালি সেই চাপকে যেন উপভোগই করেছে। ওপেনিং জুটি শুরু থেকেই ইতিবাচক ক্রিকেট খেলেছে—ডট বল কমিয়ে, বাউন্ডারির হার বাড়িয়ে।
এন্থনি মস্কা: ৩২ বলে ৬২ রান | স্ট্রাইক রেট ~১৯৪
জাস্টিন মস্কা: ৪৪ বলে ৬০ রান
দুই ভাইয়ের অপরাজিত শতরানের জুটিতে ইতালি ১২.৪ ওভারেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে—কোনো উইকেট না হারিয়ে। তাদের শট নির্বাচন ছিল পরিণত, বাউন্ডারি মারার সময় নির্বাচন ছিল নিখুঁত, আর রানিং বিটুইন দ্য উইকেট ছিল চমৎকার।
নেপালের বোলাররা লাইন–লেংথ ধরে রাখার চেষ্টা করলেও উইকেট আদায়ে ব্যর্থ হন। স্পিন আক্রমণ মাঝ ওভারে গতি কমাতে পারেনি; বরং মস্কা জুটি সুইপ, কাট ও লফটেড ড্রাইভে রান তুলে ম্যাচ একপেশে করে তোলে।
ম্যাচ বিশ্লেষণ: কোথায় জিতল ইতালি, কোথায় পিছিয়ে নেপাল?
১️⃣ পাওয়ারপ্লে নিয়ন্ত্রণ
ইতালি নতুন বলে দ্রুত উইকেট তুলে নেপালকে চাপে ফেলে। অন্যদিকে রানতাড়ায় পাওয়ারপ্লে থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
২️⃣ পার্টনারশিপের গুরুত্ব
নেপাল বড় জুটি গড়তে ব্যর্থ। বিপরীতে ইতালির ওপেনিং জুটি পুরো ম্যাচে অপরাজিত থেকে পার্থক্য গড়ে দেয়। টি২০-তে ৫০+ পার্টনারশিপ ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ—এখানেই ব্যবধান।
৩️⃣ মানসিক দৃঢ়তা
বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে চাপ সামলানো সহজ নয়। ইতালির ব্যাটসম্যানরা আত্মবিশ্বাসী ছিল; তাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজেই তা স্পষ্ট। নেপালের ক্ষেত্রে শুরুতেই ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা দেখা যায়নি।
পরিসংখ্যান এক নজরে
নেপাল: ১২৩ (১৯.৩ ওভার)
ইতালি: ১২৪/০ (১২.৪ ওভার)
ফলাফল: ইতালি ১০ উইকেটে জয়ী
ম্যাচসেরা: এন্থনি মস্কা (৬২* রান)
গ্রুপ–C পয়েন্ট টেবিলে প্রভাব
এই জয়ে ইতালি শুধু ২ পয়েন্টই পায়নি, বরং নেট রান রেটেও বড় উন্নতি করেছে। ১০ উইকেটের জয় ও দ্রুত রানতাড়া তাদের সুপার–৮ দৌড়ে শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে।
নেপালের জন্য এখন পরবর্তী ম্যাচগুলো ‘মাস্ট–উইন’। বিশেষ করে ব্যাটিং বিভাগে ধারাবাহিকতা ও ইনিংস নির্মাণে মনোযোগ বাড়াতে হবে।
মানবিক দৃষ্টিকোণ: স্বপ্ন, সংগ্রাম ও শেখার গল্প
ক্রিকেটের সৌন্দর্য এখানেই—যেখানে অপেক্ষাকৃত নতুন দলও বিশ্বমঞ্চে বড় বার্তা দিতে পারে। ইতালির এই জয় কেবল একটি ফলাফল নয়; এটি তাদের ক্রিকেটীয় অগ্রগতির প্রতীক। অন্যদিকে নেপালের জন্য এটি হতাশার হলেও শেখার সুযোগ। তরুণ দল হিসেবে তারা জানে, অভিজ্ঞতা থেকেই বড় সাফল্য আসে।
উপসংহার
নেপাল বনাম ইতালি, টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬–এর এই ম্যাচটি দেখিয়েছে পরিকল্পনা, পার্টনারশিপ এবং আত্মবিশ্বাস কীভাবে ম্যাচ জেতায়। ১২৩ রানের লক্ষ্যকে সহজ করে ইতালি প্রমাণ করেছে—আক্রমণাত্মক কিন্তু নিয়ন্ত্রিত ক্রিকেটই আধুনিক টি২০–র চাবিকাঠি।
সুপার–৮ দৌড়ে ইতালির অবস্থান এখন অনেক মজবুত। নেপাল যদি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে, তাহলে গ্রুপ–C এখনও খোলা। বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রতিটি ম্যাচই নতুন গল্প লেখে—এবং মুম্বাইয়ের এই রাতটি নিঃসন্দেহে ইতালির ক্রিকেট ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
