শ্রীলংকার দাপুটে জয়! ওমানকে ১০৫ রানে হারিয়ে সুপার এইটসের পথে এগিয়ে
শ্রীলংকা বনাম ওমান, ICC মেন’স টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬: ১০৫ রানের দাপুটে জয়ে সুপার এইটসের পথে লঙ্কানরা
টুর্নামেন্ট: ICC Men’s T20 World Cup 2026
গ্রুপ: Group B
ম্যাচ: শ্রীলংকা 🇱🇰 বনাম ওমান 🇴🇲 (১৬তম ম্যাচ)
স্থান: পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, ক্যান্ডি
তারিখ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
টস: ওমান ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত
ম্যাচ ফলাফল
🏆 শ্রীলংকা – ২২৫/৫ (২০ ওভার)
🇴🇲 ওমান – ১২০/৯ (১৯.৬ ওভার)
✔️ শ্রীলংকা ১০৫ রানে জয়ী
ICC মেন’স টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ ‘বি’-তে শ্রীলংকা তাদের আধিপত্য আরও একবার প্রমাণ করল। ক্যান্ডির পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওমানের বিপক্ষে ১০৫ রানের বিশাল জয় তুলে নিয়ে লঙ্কানরা শুধু দুটি পয়েন্টই অর্জন করেনি, বরং সুপার এইটসের পথে নিজেদের অবস্থানও অনেকটা নিশ্চিত করেছে।
আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে লঙ্কান ঝড়
টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলংকা শুরুতেই ধাক্কা খায়। ইনিংসের প্রথম বলেই ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা আউট হয়ে গেলে কিছুটা চাপ তৈরি হয়। তবে সেই চাপ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা দায়িত্বশীল ও আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ দ্রুত নিজেদের হাতে নিয়ে নেন।
শ্রীলংকার ব্যাটিং লাইন-আপ ছিল পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক। পাওয়ারপ্লে শেষে রানরেট ছিল ইতিবাচক, আর মাঝের ওভারগুলোতে স্পিনারদের বিপক্ষে চমৎকার স্ট্রাইক রোটেশন ও বাউন্ডারি আদায়ে স্কোর দ্রুত এগিয়ে যায়। শেষ পাঁচ ওভারে তারা গিয়ার বদলে বড় শট খেলতে শুরু করে, যা ইনিংসকে ২০০ ছাড়িয়ে ২২৫/৫-এ পৌঁছে দেয়।
টি২০ ক্রিকেটে ২২৫ রান একটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক স্কোর। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এমন রান তাড়া করা যে কোনো দলের জন্যই কঠিন। শ্রীলংকার ব্যাটসম্যানরা শুধু ব্যক্তিগত ইনিংসেই উজ্জ্বল ছিলেন না, গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ গড়ে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেন—যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
ওমানের সামনে পাহাড়সম লক্ষ্য
২২৫ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় ওমান। বড় লক্ষ্য তাড়া করার ক্ষেত্রে শুরুটা গুরুত্বপূর্ণ হলেও তারা দ্রুত উইকেট হারিয়ে ফেলে। শ্রীলংকার পেস ও স্পিন আক্রমণের মিশ্রণে ওমানের ব্যাটিং লাইন-আপ কখনোই স্বচ্ছন্দ হতে পারেনি।
পাওয়ারপ্লেতেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারানোয় রানরেট দ্রুত বেড়ে যায়। ফলে মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপ আরও বাড়ে। তারা কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও প্রয়োজনীয় রানরেট ১২-১৩-এর ওপরে চলে গেলে ম্যাচ প্রায় হাতছাড়া হয়ে যায়।
শেষ পর্যন্ত ১৯.৬ ওভারে ১২০/৯ রানেই থেমে যায় ওমানের ইনিংস। শ্রীলংকার বোলাররা নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথে বল করে প্রতিপক্ষকে বড় শট খেলার সুযোগ দেয়নি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে তারা ম্যাচে একতরফা আধিপত্য বজায় রাখে।
গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো
এই ম্যাচে কয়েকটি মুহূর্ত ছিল টার্নিং পয়েন্ট:
✔️ প্রথম বলেই উইকেট: ওমান শুরুতেই পাথুম নিশাঙ্কাকে আউট করে ম্যাচে চমক তৈরি করে।
✔️ মিডল অর্ডারের জুটি: শ্রীলংকার মধ্যক্রমের ব্যাটসম্যানদের বড় পার্টনারশিপ ইনিংসকে ২০০ ছাড়াতে সাহায্য করে।
✔️ ডেথ ওভারের বিস্ফোরণ: শেষ পাঁচ ওভারে দ্রুত রান তোলার ফলে লক্ষ্য হয়ে যায় প্রায় অসম্ভব।
✔️ শুরুতেই ওমানের ধস: বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে দ্রুত উইকেট হারানোই ওমানের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
খেলোয়াড় পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ
শ্রীলংকা:
দলের ব্যাটসম্যানরা সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওপেনার দ্রুত আউট হলেও মিডল অর্ডার পরিস্থিতি সামলে নেয়। বোলাররাও ছিলেন সমান কার্যকর। পেসাররা নতুন বলে সুইং আদায় করেন, আর স্পিনাররা মাঝের ওভারগুলোতে রান চেপে ধরেন।
ওমান:
ওমানের বোলাররা শুরুতে উইকেট পেলেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেননি। ব্যাটিং বিভাগ বড় লক্ষ্য তাড়া করার মানসিক চাপ সামলাতে ব্যর্থ হয়েছে। ভবিষ্যতে বড় ম্যাচে টিকে থাকতে হলে তাদের টপ অর্ডারকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
গ্রুপ ‘বি’-তে প্রভাব
এই বড় জয়ের ফলে শ্রীলংকার নেট রানরেট উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গ্রুপ পর্বে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুপার এইটসে ওঠার লড়াইয়ে নেট রানরেট অনেক সময় নির্ধারক ভূমিকা রাখে। ১০৫ রানের জয় তাদের আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে, ওমানের জন্য এটি ছিল বড় ধাক্কা। শুধু পয়েন্ট হারানোই নয়, নেট রানরেটেও বড় প্রভাব পড়েছে। ফলে সুপার এইটসে জায়গা করে নিতে হলে তাদের বাকি ম্যাচগুলোতে বড় জয় পেতে হবে।
সারসংক্ষেপ
শ্রীলংকা বনাম ওমান ম্যাচটি ছিল একতরফা আধিপত্যের উদাহরণ।
✔️ শ্রীলংকা ২০ ওভারে তোলে ২২৫/৫
✔️ ওমান থামে ১২০/৯ রানে
✔️ ১০৫ রানের বিশাল জয় লঙ্কানদের
✔️ সুপার এইটসের পথে বড় পদক্ষেপ
বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন দাপুটে পারফরম্যান্স শ্রীলংকার আত্মবিশ্বাসকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবে তারা এবার শিরোপা দৌড়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিয়েছে।
ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এটি ছিল এক রোমাঞ্চকর ম্যাচ, যেখানে শ্রীলংকা প্রমাণ করেছে—সঠিক পরিকল্পনা ও দলগত পারফরম্যান্স থাকলে বড় মঞ্চেও জয় নিশ্চিত করা সম্ভব।
