পিএসজি বনাম মোনাকো রুদ্ধশ্বাস লড়াই |ফুটবল নিউজ বাংলা




🇫🇷 পিএসজি বনাম মোনাকো — দক্ষিণ ফরাসি ডার্বিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রুদ্ধশ্বাস নাটক

২০২৫-২৬ মৌসুমের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নকআউট প্লে-অফের প্রথম লেগে ফুটবলপ্রেমীরা দেখেছে এক অবিশ্বাস্য লড়াই। ১৭/১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে মোনাকোর ঐতিহাসিক স্টেড লুইস II-তে মুখোমুখি হয় দুই ফরাসি প্রতিদ্বন্দ্বী—পিএসজি ও মোনাকো। ম্যাচটি শুধু স্কোরলাইনের দিক থেকে নয়, কৌশল, মানসিক দৃঢ়তা এবং নাটকীয় মোড়ের কারণে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অন্যতম স্মরণীয় লড়াই হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ম্যাচের ফলাফল

মোনাকো 2–3 পিএসজি

প্রথম লেগে অ্যাওয়ে ম্যাচে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে বড় সুবিধা আদায় করে পিএসজি। ২-০ পিছিয়ে থেকেও যেভাবে তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছে, সেটি দলটির মানসিক শক্তির অনন্য উদাহরণ।

ম্যাচের গোল ও ঘটনাপ্রবাহ

মোনাকোর দুর্দান্ত সূচনা

খেলা শুরু হওয়ার মাত্র ১ মিনিটের মাথায় মোনাকোর ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুন অসাধারণ হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। পিএসজি ডিফেন্স তখনও পুরোপুরি ছন্দে ফেরেনি। ১৮ মিনিটে আবারও বালোগুন গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন। স্টেড লুইস II তখন উল্লাসে ফেটে পড়ে।

এই সময়ে মনে হচ্ছিল মোনাকো হয়তো বড় চমক উপহার দিতে যাচ্ছে।

পিএসজি-এর প্রত্যাবর্তনের শুরু

দুই গোল হজম করার পর পিএসজি ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে। মাঝমাঠে বলের দখল বাড়ায় এবং আক্রমণ সাজাতে থাকে। একটি পেনাল্টি সুযোগ পেলেও গোল করতে ব্যর্থ হয়।

কিন্তু ম্যাচের ২৯ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা তরুণ ফরোয়ার্ড Désiré Doué গোল করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। তাঁর নিখুঁত ফিনিশিং পিএসজি-কে নতুন করে আত্মবিশ্বাস দেয়।

সমতায় ফেরা

প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ডানদিক থেকে দুর্দান্ত আক্রমণে গোল করেন আশরাফ হাকিমি। ২-২ সমতা নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল।

লাল কার্ড ও নির্ধারক মুহূর্ত

দ্বিতীয়ার্ধে মোনাকোর মিডফিল্ডার আলেকজান্ডার গোলোভিন লাল কার্ড দেখেন। ১০ জনে নেমে যাওয়ার ফলে মোনাকোর রক্ষণ ভেঙে পড়তে শুরু করে।

৬৭ মিনিটে আবারও গোল করেন Doué। তাঁর দ্বিতীয় গোলটি পিএসজি কে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত এই স্কোরলাইনই ম্যাচ নির্ধারণ করে।

গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান

  • মোনাকোর গোল: ফোলারিন বালোগুন (১’, ১৮’)

  • PSG-এর গোল: Désiré Doué (২৯’, ৬৭’), আশরাফ হাকিমি (৪১’)

  • বল দখল: পিএসজি এগিয়ে

  • শট অন টার্গেট: পিএসজি বেশি কার্যকর

পরিসংখ্যান বলছে, শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও কৌশলগতভাবে পিএসজি পুরো ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

⭐ ম্যাচের নায়ক: Désiré Doué

এই ম্যাচে Doué ছিলেন পার্থক্য গড়া খেলোয়াড়। বদলি হিসেবে নেমে দুই গোল করা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো বড় মঞ্চে বিশাল সাফল্য। তাঁর গতি, পজিশনিং এবং ঠান্ডা মাথায় ফিনিশিং পিএসজির আক্রমণভাগকে নতুন মাত্রা দেয়।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই ম্যাচ Doué-র ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে।

কৌশল ও মানসিক শক্তি

পিএসজি শুরুতে রক্ষণভাগে সমস্যায় পড়লেও ধীরে ধীরে মাঝমাঠ শক্ত করে। উইং ব্যবহার করে দ্রুত আক্রমণ এবং প্রেসিং বাড়িয়ে মোনাকোকে চাপে ফেলে।

অন্যদিকে, মোনাকো প্রথমার্ধে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও লাল কার্ডের পর রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে। সংখ্যাগত ঘাটতি তাদের খেলায় বড় প্রভাব ফেলে।

কোচ ও দলের প্রতিক্রিয়া

ম্যাচ শেষে পিএসজি শিবিরে স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাস দেখা যায়। কোচ বলেন, “২-০ পিছিয়ে থেকেও ছেলেরা যে মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়েছে, তা অসাধারণ।”

মোনাকো কোচের মতে, “লাল কার্ড আমাদের পরিকল্পনা ভেঙে দেয়। দ্বিতীয় লেগে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে চাই।”

দ্বিতীয় লেগের প্রত্যাশা

এখন দ্বিতীয় লেগ অনুষ্ঠিত হবে প্যারিসের বিখ্যাত পার্ক দে প্রিন্সেস এ। নিজেদের মাঠে পিএসজি স্বাভাবিকভাবেই ফেভারিট। তবে দুই গোলের ব্যবধান না থাকায় মোনাকোর এখনও সুযোগ আছে।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের ইতিহাস কম নয়—তাই দ্বিতীয় লেগ আরও উত্তেজনাপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

উপসংহার

পিএসজি বনাম মোনাকো এই ম্যাচটি ছিল আবেগ, কৌশল এবং মানসিক দৃঢ়তার এক নিখুঁত সমন্বয়। শুরুতে ২-০ পিছিয়ে পড়েও ৩-২ ব্যবধানে জয়—এমন কমব্যাকই বড় দলের পরিচয়।

দক্ষিণ ফরাসি ডার্বির এই লড়াই শুধু একটি ম্যাচ নয়, এটি ছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সৌন্দর্যের প্রতিফলন। ফুটবলপ্রেমীরা দীর্ঘদিন এই ম্যাচের নাটকীয় মুহূর্তগুলো মনে রাখবে।

দ্বিতীয় লেগে কী হয়, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url