পাকিস্তান বনাম শ্রীলংকা: মহিলা বিশ্বকাপ ২০২৫
নিচে ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত মহিলা বিশ্বকাপ ২০২৫ এর গ্রুপ পর্বে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান মহিলা জাতীয় ক্রিকেট দল এবং শ্রীলঙ্কা মহিলা জাতীয় ক্রিকেট দল এর ম্যাচ নিয়ে বিশদ প্রতিবেদন দেওয়া হলো।
ম্যাচের সারাংশ
এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২৪ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে, কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম মাঠে। দুই দলই ইতিমধ্যেই সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা শেষ করে ফেলেছিল।
সাধারণত ক্রিকেট ম্যাচে পূর্ণ রূপে ৫০ ওভার খেলা হয়, তবে এই ম্যাচের ক্ষেত্রে আবহাওয়ার কারণে মাত্র ৪.২ ওভারের পরই খেলা বন্ধ করতে হয়। পাকিস্তান ব্যাট করতে নামে, এবং ৪.২ ওভারে ১৮ রান করে ম্যাচ বন্ধ হয়ে যায় — ফলে ‘নো রেজাল্ট’ ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখ্য, এভাবে ম্যাচ শেষ না হওয়ায় দুই দলই এক-এক পয়েন্ট ভাগ করে নেয়।
পাকিস্তানের দৃষ্টিকোণ
পাকিস্তান দলে অনেক প্রত্যাশা ছিল। তবে গ্রুপ পর্বে তারা একটিও জয় অর্জন করতে পারেনি, এবং এই ম্যাচের পর পুরো টুর্নামেন্টে জয়হীন অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ম্যাচ আবহাওয়ার কারণে বাতিল হয়েছে, তাই মোটের উপর তারা এক-এক পয়েন্ট মাত্রই পেয়েছে।
এই ম্যাচে তারা ভালো শুরু করেছিল— ওপেনাররা কিছু রান এনে দিয়েছিল, ১৮/০ তে ভালো অবস্থানে ছিল। কিন্তু এরপরই বৃষ্টি এসে সব শেষ করে দিয়েছে। তাদের কেপ্টেনের বক্তব্য ছিল আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, এমনটি হতাশাজনক। অনেক দর্শক টুর্নামেন্টের স্থল নির্বাচন এবং আবহাওয়া বিষয়টি ঠিকভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি — কারণ একই স্থানে একাধিক ম্যাচ বৃষ্টি ও আবহাওয়ার কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার দৃষ্টিকোণ
শ্রীলঙ্কা দলের জন্য এটি ছিল শেষ গ্রুপ ম্যাচ। তাদেরও সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গিয়েছিল, তবে তারা অন্তত এক জয় সই করেছে এবং মোট পয়েন্ট তালিকায় পাকিস্তানের চেয়ে একটু এগিয়ে রয়েছে।
এই ম্যাচে তারা বোলিং নির্বাচন করেছে — টস জিতে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। যদিও ম্যাচ শেষ হয়ে যায় ফেলে দিয়ে, শ্রীলঙ্কার কেপ্টেন বলেন: “আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না আবহাওয়া, অনেকটা হতাশাজনক হয়েছে।”
তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, তারা শেষ ম্যাচটি ভালোভাবে শেষ করতে চেয়েছিল, তবে প্রকৃতপক্ষে সেটি সম্ভব হয়নি।
আবহাওয়ার প্রভাব ও বিশ্লেষণ
এই ম্যাচ একটি উদাহরণ হয়ে রইল যে ক্রিকিটে শুধুমাত্র দলীয় পারফরম্যান্স নয় — আবহাওয়া ও মাঠের অবস্থাও কত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য:
-
টস প্রায় তিন ঘণ্টা ডিলে হয়েছিল মাঠ কর্মী মাঠ আবরণ নিয়ে কাজ করেছে।
-
ম্যাচ শুরু হলেও মাত্র ৪.২ ওভারের পরই বৃষ্টি আবার শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত খেলা বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
-
এই মাঠে (প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম) মোট ১১টি ম্যাচের মধ্যে ৫টি ম্যাচই বৃষ্টির কারণে ‘নো রেজাল্ট’ হয়েছে — যা সঙ্গে সঙ্গে মাঠ ও সময়-নির্ধারণের পরিকল্পনায় প্রশ্ন তোলে।
-
দুই দলই এই ট্যুর্নামেন্টে যে রূপে অংশ নিয়েছে, চেষ্টা করেছে — তবে প্রাকৃতিক বাধা তাদের পরিকল্পনায় বাঁধা দিয়েছে।
ভবিষ্যতের জন্য ভাবনা
এই ম্যাচ এবং সার্বিক টুর্নামেন্ট থেকে কিছু শিক্ষা নেওয়া উচিত। বিশেষ করে:
-
টুর্নামেন্ট আয়োজনকারী সংস্থা তথা International Cricket Council (ICC)-কে এমন স্থল ও সময় নির্বাচন করতে হবে যেখানে আবহাওয়া-ঝুঁকি কম।
-
দলগুলোকে শুধু নিজেদের প্রস্তুতিতে মন দেওয়া নয়, মাঠ ও আবহাওয়ার পরিবর্তন-ঝুঁকি নিয়েও পরিকল্পনা করতে হবে। পাকিস্তান-দল বিশেষভাবে এই বিষয়টি অনুভব করেছে।
-
দর্শক এবং মিডিয়া-মুহূর্তের জন্য কঠিন হয় যখন ম্যাচ সম্পূর্ণ হয় না — ক্রিকেট-আমদানির দৃষ্টিকোণ থেকেও এটি গুরুত্বপূর্ণ।
সমাপনী ভাবনা
এই ম্যাচ নিজে হয়তো খুব বেশিদিন স্মরণ থাকবে না কারণ শেষ রূপে ‘নো রেজাল্ট’ হয়েছে — কিন্তু এর ব্যাকগ্রাউন্ড, আবহাওয়া-প্রভাব ও দুই দলের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থার কারণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তান-দল তাঁর প্রথম জয় খুঁজে পায়নি, শ্রীলঙ্কা-দল এক জয় পেলেও টুর্নামেন্ট অনেকটাই চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল।
ভবিষ্যতে তারা উভয়ে নিজেদের পরিকল্পনায় আরো নমনীয় হবে — আর আমাদের আশা থাকবে, আগামী টুর্নামেন্টে আবহাওয়ার মতো বাহির-ভিতরের কারণ ক্রিকেট হয়ে উঠবে না।
আরো পড়ুন: দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অসাধারণ জয় অস্ট্রেলিয়ার: মহিলা বিশ্বকাপ
