তৃতীয় ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় পেল ভারত
২০২৫ সালের ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার দল-এর তৃতীয় একদিনের ম্যাচের বিশ্লেষণ
২০২৫ সালের ২৫ অক্টোবর দেশে-বিদেশে ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য ছিল এক বিশেষ দিন। সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (Sydney Cricket Ground) অনুষ্ঠিত হয় ভারতের সফরের তিন ম্যাচা ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত ম্যাচ। এই ম্যাচে ভারতের দুর্দান্ত জয় দেখে অনেকেই বলছেন, “যদিও সিরিজ হেরে গেছে, কিন্তু মর্যাদার সঙ্গে শেষ করেছে ভারত”।
ম্যাচের সারাংশ
– টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া অস্ট্রেলিয়া ৪৬.৪ ওভারে মাত্র ২৩৬ রানে অলআউট হয়।
– তাড়া করতে নেমে ভারত দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে যায়। প্রথম উইকেট পড়ে মাত্র ১০.২ ওভারে – যেখানে বল করেছিল শুভমান গিল (২৪ রান) যুক্ত ছিল।
– এরপর এসে মাঠে নামেন দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার – রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলি। রোহিত অপরাজিত ১২১ রানে (১২৫ বল) ওপেনিং বা দ্বিতীয় ওভারে থেকে ব্যাটিং করেন। কোহলি অপরাজিত ৭৪ রানে (৮১ বল)।
– এই জুটি তাড়া পজিশনে ১৬৮ রান অবিচ্ছিন্ন পার্টনারশিপ গড়েছিলো, বিশেষভাবে ব্যাটিং দিক থেকে ভারতকে মাতিয়ে দিয়ে।
– শেষ পর্যন্ত ভারত ৩৮.৩ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে – স্বস্তিকর নয়, “দুর্দান্ত” বলাই যায়।
– এই জয়ের ফলে হয়তো ভারতের সিরিজ যেটা হলো না, সিরিজ হেরে গেলেও ভারতের মার্জিত সমাপ্তি হলো — সিরিজ ফল ২-১ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে।
এই ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ টপিক
রোহিত ও কোহলির পারফরম্যান্স
রোহিতের ১২১ রানের ইনিংস এক বড় মাইলফলক — তার ৩৩তম একদিনের শতক বলেও খবর আছে। কোহলিও দুর্দান্তভাবে ফিরে এসেছেন, দুই ম্যাচে শূন্য রান করে দুঃসাহসিক অবস্থায় থেকে আজ একটি সুরক্ষিত ইনিংস খেলেছেন। এই পার্টনারশিপ শুধু রানে জয় এনে দেয়নি, মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছে, এবং ভারতীয় ক্রিকেটের অভিজ্ঞ তারকাদের “ম্যাচ উইনিং” সক্ষমতা পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে।
ভারতীয় বোলিং ও ফিল্ডিং
অস্ট্রেলিয়াকে ২৩৬ রানে আটকে দেওয়া সহজ ছিল না। ভারতের বোলাররা সময়মতো উইকেট নিয়েছেন, ভারতের ফিল্ডাররাও বড় ক্যাচ নিয়েছে — বিশেষ করে কোহলির হাতে এক–দুই সিদ্ধান্তমূলক ক্যাচ ছিলেন। বোলিং আক্রমণ এবং ফিল্ডিং একসঙ্গে ভালো হলে এমন জয় আসবেই — এই বার্তাই দিল ভারতীয় দলে থেকে।
সিরিজের প্রেক্ষাপট ও প্রভাব
যদিও সিরিজটি হারিয়েছে ভারত (২-১), তবুও তৃতীয় ম্যাচে পাওয়া এই জয় অনেক বড়। সেকারণে:
-
ভবিষ্যতের জন্য ধ্বনি দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটকে — “হেরে হলেও লড়াইয়ের মুখ দেখালাম”।
-
অস্ট্রেলিয়া সফরের শেষ ম্যাচে মর্যাদার সঙ্গে শেষ করার সুযোগ হলো ভারতীয় দলের কাছে।
-
এই ইনিংস দর্শকদের মনে করিয়ে দিয়েছে — অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা কখনো হাল ছাড়ে না।
অস্ট্রেলিয়ার দিক থেকে চ্যালেঞ্জ
অস্ট্রেলিয়া শুরু ভালো করেছিল, তবে প্রথম ইনিংসে সময়মতো বড় পার্টনারশিপ গড়তে পারেনি। ভারতের বোলিং লাইন-আপ সময়মতো বিপদে ফেলেছে তাদের। দ্বিতীয় ইনিংসে যে চাপ চাপিয়ে দেওয়া গেছে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।
এক-দুটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়
-
ভারত যদি সিরিজ জয় করতো, তাহলে আরও বড় ধাক্কা হতো অস্ট্রেলিয়ায় — কিন্তু তিন অজয়ে রুখে রাখা হলো না।
-
যদিও আজ জয় পেয়েছে ভারত, সিরিজের শুরুতে দুই ম্যাচ পরাজয় তাদের জন্য চিন্তার বিষয় হতে পারে।
-
ভবিষ্যতে এমন পারফরম্যান্স ধারাবাহিক রাখতে হবে — বিশেষ করে বড় সিরিজে।
উপসংহার
এই ম্যাচে ভারতের জয় শুধু রানে নয়, মনোবল ও লড়াকু মনোভাবের প্রতিফলন। রোহিত ও কোহলির পার্টনারশিপ ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ হারলেও এই জয় ঠিক সময়ের একটি প্রতিফলন — “শেষ ম্যাচে জিতে ভালো করে শেষ করি”।
ম্যাচের মুহূর্তগুলো পর্যালোচনা করলে পাওয়া যায় — অভিজ্ঞতা, মানসিকতা, সঠিক পরিকল্পনা সবকিছুর মিলনে এমন জয় সম্ভব হয়। ক্রিকেট মানেই শুধু রান-রেকর্ড নয়, সময়মতো লড়াই করা, চাপ সামলে দাঁড়াতে পারা — এবং আজ সেটাই করল ভারত।
