সুপার ফোর বাংলাদেশ বনাম ভারত: এশিয়া কাপ ২০২৫
এশিয়া কাপে ভারত বনাম বাংলাদেশ: ম্যাচের সারসংক্ষেপ ও বিশ্লেষণ
২০২৫ সালের এশিয়া কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে সুপার ফোর পর্বে ভারতের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশের দল। এই ম্যাচ ছিল দু’দলই ফাইনালে ওঠার প্রবল ইচ্ছে নিয়ে খেলেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারত ৪১ রানের দূরত্বে জয় তুলে নিয়ে ফাইনালে পৌঁছেছে।
নিচে বিস্তারিতভাবে ম্যাচটি বিশ্লেষণ করা হলো:
ম্যাচ স্কোর ও ফলাফল
-
ভারতের ইনিংস: ৬ উইকেটে ১৬৮ রান
-
বাংলাদেশের চেজিং স্কোর: ১৯.৩ ওভার (২০ ওভারে ১ উইকেট কম) এ ১২৭ রানে অলআউট
-
ভারতের জয়: ৪১ রানে
-
ম্যাচের সেরা ক্রিকেটার (Player of the Match): অভিষেক শর্মা
ভারতীয় দিক: ব্যাটিং ও বলিং দু’দিকেই দক্ষতা
ব্যাটিং পারফরম্যান্স
ভারতের জন্য অভিষেক শর্মা ছিল বাজিমাত। মাত্র ৩৭ বলেই ৭৫ রান করে তিনি দলের ব্যাটিং আক্রমণকে শক্ত ভিত্তিতে পৌঁছে দিলেন। তিনি পাঁচটি ছয় হাঁকিয়েছেন, যা দ্রুত অঙ্কে রান তৈরি করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
শর্মার সঙ্গে ওপেনার শুভমন গিল (২৯ রান) একটি ভালো শুরু এনে দিয়েছিলেন, যা ম্যাচে ভারসাম্য রাখে।
মধ্যপর্বে ভারত কিছুটা স্লো হয়ে গিয়েছিল, বিশেষ করে ১২তম ওভার পর। তবে হার্দিক পান্ডিয়া ৩৮ রানের ইনিংস খেলেন এবং দলের রান সংখ্যা বাড়াতে অবদান রাখেন।
বলিং ডিসিপ্লিন
ভারতের বলার রা বোলিংয়ের ছক ধরেছিলেন, এবং ফল পেয়েছিলেন।
-
কুলদীপ যাদব ৪ ওভারে ৩ উইকেট নিয়েছেন এবং মাত্র ১৮ রান দিয়েছেন — তার স্পিন রোল বাংলাদেশকে বড় চাপে ফেলেছে।
-
জসপ্রীত বুমরাহ ৪ ওভারে ২ উইকেট নিয়েছেন এবং ১৮ রান খরচ করেছেন।
-
এছাড়া ভারুন চক্রবর্তী ২ উইকেট ও আকসার প্যাটেল ১ উইকেট পান।
এভাবে ভারতীয় স্পিন ও পেস আক্রমণ সমন্বয় করেই বাংলাদেশের ব্যাটিং আক্রমণকে বাধাগ্রস্ত করতে পেরেছে।
বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া: কিছুটা আক্রমণ, অনেকটা চ্যালেঞ্জ
ব্যাটিং মুখে
বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা লক্ষ্য পূরণ করার চেষ্টা করলেও পুরো দল সেটি পূরণ করতে পারেনি।
-
একমাত্র সাইফ হাসান ছিলেন হাল ধরার চেষ্টায়, ৫১ বল খেলে ৬৯ রান করে।
-
বাকিরা ভালোভাবে অবদান রাখতে পারেনি — পারভেজ হোসেইন ইমন ২১ রান, বাকিরা বেশ কম রান করেছেন।
-
মুস্তাফিজুর রহমান কর্তৃক একটি সিক্স সহ ছোট ইনিংস ছিল শেষ দিকে, তবে এটি ম্যাচ ফিরিয়ে আনতে যথেষ্ট ছিল না।
বলিংয়ে কিছু মুহূর্ত
বাংলাদেশের বলিং বিভাগ কিছুটা সাফল্য পায়নি, কারণ তাদের স্পিন আক্রমণ ও পেস বলিং তাদের জয় এনে দিতে পারল না। ভারতকে যদিও ১৬৮ রানের মধ্যে থামানো গিয়েছে কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতায় ম্যাচটা পুরোপুরি ভারতের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
তবে ম্যাচে একটি স্মরণীয় ঘটনা হলো — মুস্তাফিজুর রহমান এশিয়া কাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ টিটোয়েন্টি উইকেটভর্তি বোলার হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছেন।
তাল মিলিয়ে বললে, বাংলাদেশের পেস ও স্পিন একত্রে ভারতের ব্যাটসম্যানদের থামাতে পারছিল না।
গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ও ক্লাইম্যাক্স
-
শুরুতে ভারত দ্রুত ভালো রান তোলার চেষ্টা করেছিল। শুভমন গিল ও অভিষেক শর্মার জুটি দ্রুতই দলকে গতিতে নিয়ে যায়।
-
যদিও এর পর কিছুটা ধীরগতি দেখা দেয়, ভারত তখন খারাপ সময় কাটিয়ে সাহস ফিরিয়ে নেয়।
-
বাংলাদেশের ইনিংসে, সাইফের ব্যাটিং ছিল আলোচনায় — পাঁচটি ছয় হাঁকিয়ে তিনি দারুণ একটি ইনিংস খেলেন।
-
একাধিক সময়ে ভারতের প্রতিরোধ জোরদার হয়েছিল। বিশেষ করে কুলদীপ যাদবের স্পিন আক্রমণ বাংলাদেশকে সমস্যার মুখে ফেলে দিয়েছিল।
-
ম্যাচে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিসও ঘটেছিল — জাকের আলীর হাতে অভিষেক শর্মার একটি ক্যাচ ড্রপ হয়েছিল, এবং সেটা ম্যাচে খারাপ প্রভাব ফেলেছিল।
ফল ও প্রভাব
ভারতের এই জয়ে তারা এশিয়া কাপ ২০২৫-এর ফাইনালে পৌঁছেছে।
বাংলাদেশের পক্ষে এখন একটা “মোট খেলা” বাকী — তাদের পরবর্তী ম্যাচ হবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। যে দল সেই ম্যাচ জিতবে, তার সঙ্গেই ভারতের মুখোমুখি হবে ফাইনালে।
বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ে অবশ্যই কয়েকটি প্রশ্ন জাগবে:
-
কেন মিডল অর্ডার সমর্থন করতে ব্যর্থ হলো?
-
মন-মেজাজ ও পেস-স্পিন মিলিয়ে আক্রমণ পরিকল্পনায় কোথায় ভুল?
-
ভবিষ্যতে এই ধরনের খেলায় তারা কিভাবে টেকসই ব্যাটিং ও বলিং সমন্বয় করতে পারবে?
ভারত আবারও সে পরিচয় দিয়েছে — ব্যাটিং ও বলিং দু’দিকেই গঠনশীল পরিকল্পনা ও একজন ম্যাচজয়ী ব্যাটসম্যানের (অভিষেক শর্মা) উপস্থিতি।
