সুপার ফোরে শ্রীলংকার বিপক্ষে পাকিস্তানের জয়: এশিয়া কাপ ২০২৫
এশিয়া কাপে পাকিস্তান বনাম শ্রীলঙ্কা: একটি উদ্বেগপূর্ণ জয়
২০২৫ সালের এশিয়া কাপের সুপার ফোর পর্যায়ের ম্যাচে পাকিস্তান শ্রীলঙ্কাকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে। এই জয়ের ফলে পাকিস্তানের ফাইনাল যাওয়ার সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখে।
নিচে ম্যাচের বিস্তারিত ও পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো।
ম্যাচটির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও পরিস্থিতি
-
স্থান ও তারিখ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ এই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় আবুধাবির জায়েদ ক্রীড়া স্টেডিয়ামে (Sheikh Zayed Stadium)
-
পর্যায়: এটি ছিল সুপার ফোর পর্যায়ের তৃতীয় ম্যাচ (Super Four – Match 3)
-
দুই দলই সুপার ফোরে শুরুতেই হেরেছিল, তাই আজকের ম্যাচ তাদের জন্য এক ধরনের “মরা অথবা বাঁচার” লড়াই ছিল।
-
জয় পেতে পারলে ফাইনালের সুযোগ অনেকটাই খুলে যেত পাকিস্তানের জন্য — বিশেষ করে যদি তারা আগামী ম্যাচে বাংলাদেশকে হারায়।
শ্রীলঙ্কার ইনিংস: সংগ্রামী শুরু, মাঝপথে গুটিয়ে যাওয়া
শ্রীলঙ্কারা ব্যাটিং শুরু করে, কিন্তু ভালো শুরু করতে পারেনি।
-
তারা ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৩ রান সংগ্রহ করে।
-
তাদের ইনিংসে কামিন্দু মেন্ডিস সর্বোচ্চ ৫০ রান করেন (প্রায় ৪৪ বল)
-
তবে শুরুতে তারা দ্রুত উইকেট হারায়। কুসাল মেন্ডিস এবং পাথুম নিশান্কার শুরুর চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
-
মাঝে কিছু সময় সাবলীল ব্যাটিং গড়ে তোলার চেষ্টা করলেও পরে উইকেট পড়ার কারণে বড় রান সংগ্রহ করতে পারেনি শ্রীলঙ্কা।
-
পাকিস্তানি বোলারদের ভালো নিয়ন্ত্রণ ম্যানেজমেন্ট এবং ধারাবাহিক উইকেট তুলে নেওয়ায় শ্রীলঙ্কার ইনিংস পুরোপুরি শক্তিশালী হতে পারেনি।
পাকিস্তানের চেজ: উত্তেজনা, ধাক্কা ও শেষ রূপ
পাকিস্তানের ব্যাটিং ইনিংস ছিল চেজ করার প্রকৃত অর্থে—তাদের লক্ষ্য ছিল ১৩৪ রান।
-
পাকিস্তান ১৮ ওভারে ৫ উইকেটে ১৩৮ রান তুলে ফেলে, অর্থাৎ লক্ষ্যে পৌঁছায় আগেই।
-
হাল:
-
সাহিবজাদা ফারহান এবং হুসেইন তালাত ভালো শুরু দেয়।
-
ম্যাচের শেষ দিকের দিকে মোহাম্মদ নেওয়াজ ৩৮ রান করে অপরাজিত থেকে ম্যাচটি জয় দিয়ে শেষ করেন।
-
শেষ ওভারে অতিরিক্ত ছক্কা বরাদ্দ ও তার আগে সময়মতো রানের সংগ্রহ তাকে বিজয় এনে দেয়।
-
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় ছিল, যেখানে তারা ১৭ বলের মধ্যে ৪ উইকেট হারায়, অর্থাৎ মাঝপথে তারা চাপে পড়ে যায়।
-
যদিও সেই চাপ সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত দারুণ সমন্বয় ও ধৈর্যে তারা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়।
-
-
বোলিং বিভাগে পাকিস্তানের শিরোনাম ছিল শাহীন শাহ আফ্রিদি, যিনি ৩ উইকেট তুলে নেন।
-
এছাড়া হারিস রউফ, হুসেইন তালাতদের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।
জয়ের অর্থ ও প্রভাব
এই জয়ের ফলে পাকিস্তান:
-
ফাইনালের সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখে — তারা যদি বাংলাদেশকে পরবর্তী ম্যাচে হারায়, তাহলে তারা ফাইনালে ওঠার পথে এগিয়ে যাবে।
-
দলকে আত্মবিশ্বাস দেয় — সুপার ফোরে এমন ম্যাচ জয়ের মানে দলের সামর্থ্য ও মানসিক দৃঢ়তা প্রমাণ করে দেওয়া।
শ্রীলঙ্কার পক্ষ থেকে এই হারটা তাদের জন্য বড় ধাক্কা — বিশেষ করে তারা যদি পরবর্তী ম্যাচে জিতে ফাইনালে যেতে চায়, তাহলে অন্য ম্যাচের ফলও তাদের উপর নির্ভর করবে।
-
মিডিয়া এবং বিশ্লেষকরা এই ম্যাচটিকে “থ্রিলার” হিসেবে বর্ণনা করছে, কারণ রান অনুসরণ, উইকেট পতন এবং শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা মিলেছিল।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাসন ও মন্তব্য
-
পাকিস্তানের ক্যাপ্টেন সালমান আলী আঘা এই জয়ের পর শাহীন আফ্রিদি এবং পুরো দলের পারফরম্যান্সকে “আসেট” ও “ম্যাচ উইনার” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
-
যদিও ম্যাচটি পাকিস্তানের জন্য জয়লাভের ছিল, তাদের মাঝখানে চার উইকেট হারানোর ধাক্কাটি এক সময় প্রশ্ন তুলেছিল।
-
শ্রীলঙ্কার ব্যাটার ও মিডল অর্ডার ব্যর্থ হলেও তাদের কিছু মুহূর্ত ছিল, বিশেষ করে কামিন্দু মেন্ডিসের ইনিংস।
-
এই ম্যাচের ফলাফলের কারণে “ইন্ডিয়া বনাম পাকিস্তান” ফাইনাল হওয়ার সম্ভাবনা আরও আলোচনায় এসেছে।
সামগ্রিক মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ
-
এই ম্যাচ দর্শকদের জন্য এক উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ ছিল — ম্যাচে দলে ওঠানামা ছিল, খুব একটা বড় চেজ না হলেও চেজ কঠিন মনে হচ্ছিল, মোটকথা পুরোপুরি নাটকীয় ছিল।
-
পাকিস্তানের জন্য এটি ছিল জীবনরেখার মতো — যদি তারা ঠিকভাবে কাজ চালায়, তাহলে ফাইনালের দৌড়ে তারা থাকতে পারে।
-
শ্রীলঙ্কার দৃষ্টিতে — তাদের আজকের দিন ভালো ছিল না, এবং তারা যদি ফাইনালে যেতে চায়, তাহলে আগামী খেলায় জোরদার ভাবে খেলতে হবে ও অন্য ম্যাচগুলোর ফলের ওপর নির্ভর করতে হবে।
-
এশিয়া কাপে ক্রিকেটের উত্তেজনা ও মুহূর্তগুলোর সমাবেশ — এই ম্যাচ সেটাই প্রমাণ করল।
