এতিহাদে সিটির দাপট! নিউক্যাসলকে ৩–১ হারিয়ে কারাবাও কাপ ফাইনালে গার্দিওলার দল |ম্যানচেস্টার সিটি ম্যাচ|
ম্যাচ রিপোর্ট: ম্যানচেস্টার সিটি ৩–১ নিউক্যাসল ইউনাইটেড
প্রতিযোগিতা: কারাবাও কাপ (EFL Cup) সেমি-ফাইনাল, দ্বিতীয় লেগ
তারিখ: ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভেন্যু: এতিহাদ স্টেডিয়াম, ম্যানচেস্টার
ফলাফল: ম্যানচেস্টার সিটি ৩–১ নিউক্যাসল ইউনাইটেড
অ্যাগ্রিগেট স্কোর: ৫–১ (সিটি জয়ী)
ম্যাচের পূর্ণাঙ্গ সারসংক্ষেপ
কারাবাও কাপের সেমি-ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে ম্যানচেস্টার সিটি ও নিউক্যাসল ইউনাইটেডের মুখোমুখি লড়াই প্রত্যাশা অনুযায়ীই ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। তবে শেষ পর্যন্ত এই ম্যাচটি পরিণত হয় পেপ গার্দিওলার দলের আধিপত্যের আরেকটি নিখুঁত প্রদর্শনীতে। প্রথম লেগে ২–০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা সিটি ঘরের মাঠ এতিহাদ স্টেডিয়ামে এসে সেই লিডকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।
শুরু থেকেই ম্যাচের ছন্দ পুরোপুরি নিজেদের দখলে নেয় ম্যানচেস্টার সিটি। দর্শকদের উচ্ছ্বাস, দ্রুত পাসিং এবং আক্রমণাত্মক মানসিকতা—সব মিলিয়ে ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, সিটি শুধু ফাইনালে উঠতে নয়, বরং বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে চায়।
গোলের বিস্তারিত
🔹 প্রথমার্ধে সিটির একচেটিয়া দাপট
ম্যাচের মাত্র ৭ মিনিটেই লিড বাড়িয়ে নেয় ম্যানচেস্টার সিটি। ওমর মারমৌস নিজের গতি ও নিখুঁত ফিনিশিংয়ের মাধ্যমে প্রথম গোলটি করে দলের আত্মবিশ্বাস কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেন। এই গোলটি ছিল সিটির পরিকল্পিত আক্রমণের নিখুঁত উদাহরণ।
এরপর নিউক্যাসল কিছুটা সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করলেও সিটির চাপ সামলাতে ব্যর্থ হয়। ২৭ মিনিটে আবারও মারমৌস গোল করে ব্যবধান ২–০ করেন। মাঝমাঠ থেকে দ্রুত বল ট্রানজিশন এবং সঠিক সময়ে ফরোয়ার্ড রান নিউক্যাসলের রক্ষণকে পুরোপুরি ভেঙে দেয়।
প্রথমার্ধের ধাক্কা এখানেই শেষ হয়নি। ৩২ মিনিটে তিজজানি রেইজেন্ডার্স দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে গোল করে ম্যাচকে কার্যত একতরফা করে দেন। ফলে বিরতিতে যাওয়ার আগেই স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩–০, এবং অ্যাগ্রিগেটে ব্যবধান বেড়ে যায় ৫–০ তে।
🔹 দ্বিতীয়ার্ধে নিউক্যাসলের সম্মানরক্ষার চেষ্টা
দ্বিতীয়ার্ধে নিউক্যাসল ইউনাইটেড তুলনামূলকভাবে সাহসী ফুটবল খেলতে শুরু করে। সেই প্রচেষ্টার ফল আসে ৬২ মিনিটে, যখন অ্যান্থনি এলাঙ্গা একটি চমৎকার ফিনিশিংয়ে গোল করে ব্যবধান ৩–১ করেন।
এই গোলটি নিউক্যাসলের জন্য কিছুটা আত্মবিশ্বাস জোগালেও ম্যাচের গতিপথ বদলানোর জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। সিটি এরপর ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণে এনে রক্ষণে ভারসাম্য বজায় রাখে এবং আর কোনো বড় সুযোগ তৈরি করতে দেয়নি।
📊 খেলোয়াড় পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ
ম্যানচেস্টার সিটি
ওমর মারমৌস:
ম্যাচের সেরা পারফরমার। তার দুই গোল শুধু স্কোরলাইনই নয়, পুরো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পেস, পজিশনিং এবং ফিনিশিং—সবকিছুতেই ছিলেন অনবদ্য।
তিজজানি রেইজেন্ডার্স:
মাঝমাঠে দারুণ নিয়ন্ত্রণ দেখিয়েছেন। তার গোলটি ছিল আত্মবিশ্বাস ও টেকনিকের চমৎকার সংমিশ্রণ।
নিকো গনজালেজ:
মিডফিল্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ডিফেন্সিভ কাভার ও বল রিকভারিতে ছিলেন কার্যকর।
নিউক্যাসল ইউনাইটেড
অ্যান্থনি এলাঙ্গা:
দলের একমাত্র উজ্জ্বল দিক। গোল করার পাশাপাশি কিছু আক্রমণ তৈরি করেছেন, যদিও পর্যাপ্ত সাপোর্ট পাননি।
ট্যাকটিক্যাল বিশ্লেষণ
সিটির কৌশল:
পেপ গার্দিওলার দল এই ম্যাচে মাঝমাঠের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত পাসিং গেমের ওপর জোর দেয়। ফুল-ব্যাক ও উইঙ্গারদের মুভমেন্ট নিউক্যাসলের ডিফেন্সকে বারবার বিভ্রান্ত করেছে।
নিউক্যাসলের দুর্বলতা:
প্রথমার্ধে রক্ষণভাগে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট ছিল। কনট্রা-অ্যাটাক নির্ভর পরিকল্পনা থাকলেও সিটির প্রেসিংয়ের কারণে তা খুব একটা কাজে আসেনি।
উপসংহার
কারাবাও কাপ সেমি-ফাইনালের এই দ্বিতীয় লেগে ম্যানচেস্টার সিটি প্রমাণ করেছে কেন তারা ইংলিশ ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল। ৩–১ জয়ের মাধ্যমে অ্যাগ্রিগেটে ৫–১ ব্যবধানে ফাইনালে উঠে পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা আরও একটি ট্রফি জয়ের পথে বড় পদক্ষেপ নিল।
অন্যদিকে নিউক্যাসল ইউনাইটেড চেষ্টা করলেও সিটির মান, অভিজ্ঞতা ও গতি তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবুও এই টুর্নামেন্টে তাদের লড়াকু মানসিকতা প্রশংসার দাবিদার।
সিটি সমর্থকদের জন্য এটি ছিল আরেকটি স্মরণীয় রাত—আর ফুটবলপ্রেমীদের জন্য একটি ক্লাসিক আধিপত্যের উদাহরণ।
