শেষ মুহূর্তের থ্রিলারে পাকিস্তানের রোমাঞ্চকর জয় |ক্রিকেট নিউজ বাংলা|
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬: পাকিস্তান বনাম নেদারল্যান্ডস — নাটকীয় এক জয়ের গল্প
২০২৬ সালের আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুই হলো রোমাঞ্চে ভরপুর এক ম্যাচ দিয়ে। ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখ ছিল প্রথম ম্যাচের দিকে, যেখানে মুখোমুখি হয়েছিল শক্তিশালী পাকিস্তান এবং ক্রমেই উন্নতি করা ইউরোপীয় দল নেদারল্যান্ডস। ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, শ্রীলঙ্কার ঐতিহাসিক সিনহালিজ স্পোর্টস ক্লাব, কলম্বো—এই ভেন্যুতেই লেখা হলো বিশ্বকাপের প্রথম থ্রিলার।
এই ম্যাচ শুধু একটি জয় বা পরাজয়ের গল্প নয়; এটি ছিল চাপ, সাহস, ভুল আর শেষ মুহূর্তের বীরত্বে ভরা একটি পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেট নাটক।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত চিত্র
টসে জিতে নেদারল্যান্ডস প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। শুরুটা খুব একটা দ্রুত না হলেও তারা ধীরে ধীরে ইনিংস গড়ে তোলে। পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রিত বোলিং আক্রমণের বিপরীতে নেদারল্যান্ডস ১৯.৫ ওভারে ১৪৭ রান করে অলআউট হয়।
১৪৮ রানের লক্ষ্য টি-টোয়েন্টিতে সাধারণত সহজ মনে হলেও কলম্বোর উইকেট ও চাপের পরিস্থিতিতে কাজটি মোটেও সহজ ছিল না—যা ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
নেদারল্যান্ডস ইনিংস: দৃঢ়তা থাকলেও বড় সংগ্রহ নয়
নেদারল্যান্ডসের ইনিংসে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস, যিনি দলের হাল ধরেন। তাঁর ৩৭ রানের ইনিংসটি ছিল দায়িত্বশীল ও পরিণত। এছাড়া অলরাউন্ডার বাস দে লীডে ৩০ রান করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
তবে মাঝের ওভারগুলোতে পাকিস্তানের বোলাররা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন।
পাকিস্তানের বোলিংয়ে উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স:
সালমান মিরজা: ৩ উইকেট, ২৪ রান
আবরার আহমেদ: ২ উইকেট, ২৩ রান
নওয়াজ: গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু
নিয়মিত উইকেট হারানোর ফলে নেদারল্যান্ডস শেষ দিকে বড় স্কোর গড়তে ব্যর্থ হয় এবং ১৪৭ রানেই থামে।
পাকিস্তান ইনিংস: সহজ লক্ষ্য, কঠিন বাস্তবতা
১৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান ভালো শুরু পেলেও দ্রুতই ছন্দ হারায়। ওপেনার সাইম আয়ুব শুরুতে কিছুটা আত্মবিশ্বাস জোগালেও মাঝের ওভারগুলোতে একের পর এক উইকেট পড়তে থাকে।
এক পর্যায়ে স্কোর দাঁড়ায় ৯৮/২, কিন্তু সেখান থেকেই ধস নামে। মাত্র কয়েক ওভারের ব্যবধানে পাকিস্তান পৌঁছে যায় ১১৪/৭ অবস্থানে। তখন গ্যালারিতে থাকা সমর্থকদের মুখে উদ্বেগ, আর নেদারল্যান্ডস শিবিরে জয়ের স্বপ্ন।
ফাহিম আশরাফ: চাপের মুহূর্তে নীরব নায়ক
যখন ম্যাচ পুরোপুরি নেদারল্যান্ডসের দিকে হেলে গেছে বলে মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে আসেন ফাইম আশরাফ। পরিস্থিতি ছিল ভয়ংকর—প্রতিটি বল যেন ফাইনাল ওভারের মতো।
কিন্তু ফাইম আশরাফ চাপকে ভয় না পেয়ে খেললেন সাহসী ও বুদ্ধিদীপ্ত ক্রিকেট। মাত্র ১১ বলে অপরাজিত ২৯ রান, যার মধ্যে ছিল তিনটি বিশাল ছয়—পুরো ম্যাচের চিত্র বদলে দিল।
বিশেষ করে ১৯তম ওভারে করা ২৪ রান ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। শেষ পর্যন্ত ৩ বল হাতে রেখেই পাকিস্তান লক্ষ্য পূরণ করে, এবং নিশ্চিত করে একটি অবিশ্বাস্য জয়।
এই অসাধারণ ইনিংসের জন্য ফাইম আশরাফকে নির্বাচিত করা হয় “ম্যান অব দ্য ম্যাচ”।
ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট
পাকিস্তানের দ্রুত উইকেট পতন (৯৮/২ → ১১৪/৭)
১৯তম ওভারে ফাইম আশরাফের বিধ্বংসী ব্যাটিং
নেদারল্যান্ডসের একটি সহজ ক্যাচ মিস, যা ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়
এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই শেষ পর্যন্ত বড় পার্থক্য গড়ে দেয়।
নেদারল্যান্ডস: হারলেও প্রশংসনীয় লড়াই
ফলাফল তাদের পক্ষে না গেলেও নেদারল্যান্ডস প্রমাণ করেছে তারা আর কোনো ছোট দল নয়। বোলিংয়ে শৃঙ্খলা, ফিল্ডিংয়ে উদ্যম এবং বড় দলের বিপক্ষে সাহসী মানসিকতা—সব মিলিয়ে তারা ভবিষ্যতের জন্য আশার আলো দেখিয়েছে।
পাকিস্তানের সামনে কী অপেক্ষা করছে?
এই জয় নিখুঁত না হলেও মানসিক দিক থেকে পাকিস্তানের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের শুরুতেই এমন চাপের ম্যাচ জিতে নেওয়া দলকে আত্মবিশ্বাস দেবে। বিশেষ করে ফাইম আশরাফের মতো খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের বড় ম্যাচে দলের শক্তি হয়ে উঠতে পারে।
উপসংহার
পাকিস্তান বনাম নেদারল্যান্ডস ম্যাচটি ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য এক আদর্শ সূচনা। উত্তেজনা, নাটক, চাপ আর শেষ মুহূর্তের নায়কত্ব—সবকিছুই ছিল এই ম্যাচে।
ক্রিকেট যে শুধু রান আর উইকেটের খেলা নয়, বরং আবেগ আর সাহসের গল্প—এই ম্যাচ আবারও সেটাই প্রমাণ করল। আর ফাইম আশরাফ? তিনি থাকবেন এই বিশ্বকাপের প্রথম নায়ক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে।
আরো পড়ুন: হেটমায়ার–শেফার্ড শোতে স্কটল্যান্ডকে হারাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ |টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬
