ভারত বনাম যুক্তরাষ্ট্র: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ ম্যাচ রিভিউ ও পূর্ণ বিশ্লেষণ |টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬
🏏 টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬: ভারত বনাম যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচের পূর্ণ পর্যালোচনা
২০২৬ সালের আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এক বিশাল আয়োজন। ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের শুরুতেই গ্রুপ পর্বে বেশ কিছু আকর্ষণীয় ম্যাচ উপহার পাচ্ছেন দর্শকরা। সেই ধারাবাহিকতায় গ্রুপ–A-এর অন্যতম আলোচিত ম্যাচে মুখোমুখি হয় ক্রিকেট পরাশক্তি ভারত এবং দ্রুত উন্নতি করা যুক্তরাষ্ট্র (USA)।
ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে। রাতের আলোয় খেলা এই ম্যাচটি শুধু দুই দলের জন্যই নয়, বিশ্বকাপের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। একদিকে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত, অন্যদিকে নতুন শক্তি হিসেবে উঠে আসা USA—সব মিলিয়ে ম্যাচটি ঘিরে ছিল ব্যাপক আগ্রহ।
টস ও ম্যাচ পরিকল্পনা
টস জিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। রাতের ম্যাচ হওয়ায় শিশির একটি বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে—এই বিবেচনায় USA মনে করেছিল, শুরুতে ভারতের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারলে ম্যাচে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে ওয়াংখেড়ের পিচ ঐতিহ্যগতভাবেই ব্যাটিং-বান্ধব হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত যে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে ছিল প্রশ্ন।
ভারতের ইনিংস: ধাক্কা সামলে লড়াই
ভারত প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে যায়। ইনিংসের শুরুতেই অভিষেক শর্মা কোনো রান না করেই ফিরে যান। এরপর শিবম দুবেও বড় অবদান রাখতে ব্যর্থ হন। টপ অর্ডারের এমন ব্যর্থতায় ভারতীয় ডাগআউটে খানিকটা উদ্বেগ দেখা যায়।
এই কঠিন সময়ে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। শুরুতে পরিস্থিতি বুঝে খেললেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজের স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ফিরে যান। একের পর এক নিখুঁত কভার ড্রাইভ, স্কুপ শট আর স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে পাঠানো ছক্কা—সব মিলিয়ে দর্শকদের জন্য ছিল চোখ জুড়ানো দৃশ্য।
সূর্যকুমার যাদব খেলেন অসাধারণ ৮৪ রানের ইনিংস (৪৯ বল), যা ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। তাঁর ইনিংসের সুবাদে ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৬১/৯ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়।
তবে ভারতের এই সংগ্রহে যুক্তরাষ্ট্রের বোলারদের ভূমিকাও কম ছিল না। বিশেষ করে পেসার শ্যাডলি ভ্যান স্কালকউইক দুর্দান্ত বোলিং করে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন। তাঁর নিখুঁত লাইন-লেংথ ভারতের ব্যাটিং লাইন-আপকে বেশ ভোগায় এবং ম্যাচে উত্তেজনা ধরে রাখে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইনিংস: সাহসী চেষ্টা, কিন্তু যথেষ্ট নয়
১৬২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে যুক্তরাষ্ট্র বেশ আত্মবিশ্বাসী সূচনা করে। ওপেনাররা শুরুতেই কিছু বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ম্যাচে চাপ কমানোর চেষ্টা করেন। এরপর সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তি (৩৭ রান) ও মিলিন্দ কুমার (৩৪ রান) একটি কার্যকর জুটি গড়ে তোলেন, যা USA-কে ম্যাচে কিছুটা সময় টিকিয়ে রাখে।
কিন্তু ভারতীয় বোলিং আক্রমণ ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ সিরাজ দুর্দান্ত স্পেল করে ৩টি উইকেট তুলে নেন। অপর প্রান্ত থেকে আর্শদীপ সিং গুরুত্বপূর্ণ ২টি উইকেট নিয়ে USA-র রান তোলার গতি কমিয়ে দেন।
মাঝের ওভারে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকায় USA শেষ পর্যন্ত বড় স্কোরের দিকে যেতে পারেনি। নির্ধারিত ২০ ওভারে তারা থামে ১৩২/৮ রানে।
ম্যাচের ফলাফল
শেষ পর্যন্ত ভারত ২৯ রানের ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। এই জয়ের মাধ্যমে ভারত গ্রুপ–A তে গুরুত্বপূর্ণ দুই পয়েন্ট অর্জন করে এবং বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে।
সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড:
🇮🇳 ভারত: ১৬১/৯ (২০ ওভার)
🇺🇸 যুক্তরাষ্ট্র: ১৩২/৮ (২০ ওভার)
🏆 ফলাফল: ভারত জয়ী ২৯ রানে
ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়
এই ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন সূর্যকুমার যাদব। চাপের মুহূর্তে তাঁর দায়িত্বশীল অথচ আক্রমণাত্মক ইনিংসই ভারতের জয়ের ভিত গড়ে দেয়। দলের যখন রান দরকার ছিল, তখন তিনি নেতৃত্ব দিয়ে সামনে থেকে লড়াই করেছেন।
সামনে তাকিয়ে
ভারতের জন্য এই জয় ছিল আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর মতো। ব্যাটিংয়ে শুরুতে কিছু দুর্বলতা থাকলেও মিডল অর্ডারের দায়িত্বশীল পারফরম্যান্স ও বোলারদের নিয়ন্ত্রিত স্পেল ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা দেয়। যদি দল একই সমন্বয় বজায় রাখতে পারে, তাহলে শিরোপা ধরে রাখার দৌড়ে ভারত নিঃসন্দেহে অন্যতম ফেভারিট।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পারফরম্যান্সও হতাশাজনক ছিল না। শক্তিশালী বোলিং এবং কিছু সাহসী ব্যাটিং প্রমাণ করে দিয়েছে—তারা আর শুধু অংশগ্রহণকারী দল নয়, বরং বড় দলগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে সক্ষম।
উপসংহার
ভারত বনাম যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচটি ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর একটি স্মরণীয় লড়াই। উত্তেজনা, নাটকীয়তা ও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের দারুণ মিশেলে ম্যাচটি দর্শকদের উপহার দিয়েছে পূর্ণ বিনোদন—যা বিশ্বকাপের আসল সৌন্দর্য।
