টিম সিফার্টের ঝলক! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ আফগানিস্তানকে হারাল নিউজিল্যান্ড |টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬
নিউজিল্যান্ড বনাম আফগানিস্তান: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ ম্যাচ রিপোর্ট
নিউজিল্যান্ডের পাঁচ উইকেটের জয়ে গ্রুপ-D তে শক্ত বার্তা
আইসিসি পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ-D এর চতুর্থ ম্যাচে ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে মুখোমুখি হয় নিউজিল্যান্ড ও আফগানিস্তান। ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রত্যাশা পূরণ করা এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় চেন্নাইয়ের ঐতিহাসিক এম. এ. চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে। উত্তেজনা, পাল্টা আক্রমণ ও কৌশলগত লড়াইয়ে ভরা এই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত পাঁচ উইকেটে জয় তুলে নেয় নিউজিল্যান্ড, যা তাদের গ্রুপ পর্যায়ে শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করে।
টস ও ম্যাচের প্রেক্ষাপট
টস জিতে আফগানিস্তান অধিনায়ক প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন। চেন্নাইয়ের স্পিন সহায়ক উইকেট বিবেচনায় রেখে তারা বোর্ডে বড় রান তোলার লক্ষ্য স্থির করে। আফগান শিবিরে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি ছিল না—কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তারা শক্তিশালী দল হিসেবেই নিজেদের প্রমাণ করেছে।
আফগানিস্তানের ইনিংস: ১৮২/৬
আফগানিস্তানের ইনিংস শুরুটা খুব একটা সাবলীল ছিল না। নিউজিল্যান্ডের পেস আক্রমণের সামনে টপ অর্ডার কিছুটা চাপে পড়ে যায়। লকি ফার্গুসন শুরুতেই দুর্দান্ত গতিতে বল করে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে কিউইদের ম্যাচে ফেরান।
তবে মিডল অর্ডারে দৃঢ়তার সঙ্গে দাঁড়ান গুলবাদিন নাইব। অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার ৩৫ বলে ৬৩ রানের ঝরঝরে ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল বেশ কয়েকটি টাইমিং-নির্ভর বাউন্ডারি ও শক্তিশালী ছক্কা। তার সঙ্গে সেদিকুল্লাহ আটাল (২৯ রান) গড়ে তোলেন গুরুত্বপূর্ণ একটি জুটি, যা আফগানিস্তানকে লড়াইয়ের মতো স্কোরে পৌঁছে দেয়।
২০ ওভার শেষে আফগানিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৮২ রান ৬ উইকেটে—টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে যা নিঃসন্দেহে একটি প্রতিযোগিতামূলক স্কোর।
নিউজিল্যান্ডের বোলিং বিশ্লেষণ
নিউজিল্যান্ডের বোলাররা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভালো পারফরম্যান্স দেখান। লকি ফার্গুসনের গতিময় বোলিংয়ের পাশাপাশি মিডল ওভারে স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত লাইন ও লেংথ আফগান ব্যাটসম্যানদের বড় জুটি গড়তে বাধা দেয়। শেষ দিকে রান কিছুটা বেড়ে গেলেও কিউইরা ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
নিউজিল্যান্ডের রান তাড়া: চাপ সামলে আত্মবিশ্বাসী জয়
১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ড বড় ধাক্কা খায় শুরুতেই। ফিন অ্যালেন মাত্র ১ রান করে এবং রাচিন রবীন্দ্র শূন্য রানে আউট হয়ে গেলে স্কোরবোর্ডে চাপ বাড়তে থাকে। তখন মনে হচ্ছিল আফগানিস্তানের বোলাররা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে।
কিন্তু সেই মুহূর্তেই দৃশ্যপটে আবির্ভূত হন টিম সিফার্ট। ইনিংসের ভার নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে তিনি দারুণ আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং শুরু করেন। অন্য প্রান্তে গ্লেন ফিলিপস তাকে দারুণ সঙ্গ দেন। এই জুটি দ্রুত রান তুলতে থাকে এবং আফগান বোলারদের ওপর চাপ বাড়িয়ে দেয়।
টিম সিফার্ট ৪২ বলে ৬৫ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলেন, যেখানে তার শট নির্বাচনে ছিল পরিপক্বতা ও আগ্রাসনের নিখুঁত মিশেল। গ্লেন ফিলিপসের ২৫ বলে ৪২ রান ম্যাচের গতি পুরোপুরি নিউজিল্যান্ডের দিকে ঘুরিয়ে দেয়।
শেষ দিকে ড্যারিল মিচেল ও মিচেল স্যান্টনার ঠান্ডা মাথায় ব্যাটিং করে ১৭.৫ ওভারেই লক্ষ্য পূরণ করেন। নিউজিল্যান্ড ১৮৩/৫ রান করে ম্যাচ জিতে নেয় পাঁচ উইকেটে।
ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট
নিউজিল্যান্ডের প্রথম দুই উইকেট দ্রুত পড়ে যাওয়ার পর সিফার্ট ও ফিলিপসের জুটি ছিল ম্যাচের প্রকৃত টার্নিং পয়েন্ট। এই পার্টনারশিপ না হলে ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারত।
ম্যাচের সেরা পারফরম্যান্স
🏏 ম্যান অব দ্য ম্যাচ: টিম সিফার্ট (৬৫ রান, ৪২ বল)
🏏 আফগানিস্তানের সেরা: গুলবাদিন নাইব (৬৩ রান)
টুর্নামেন্টে প্রভাব
এই জয়ের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ড গ্রুপ-D তে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করেছে এবং সুপার রাউন্ডে ওঠার সম্ভাবনা অনেকটাই বাড়িয়ে নিয়েছে। অন্যদিকে আফগানিস্তান হারলেও তাদের লড়াকু মানসিকতা ও পারফরম্যান্স ভবিষ্যৎ ম্যাচগুলোর জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
সামগ্রিক মূল্যায়ন
ম্যাচটি প্রমাণ করেছে যে বড় মঞ্চে অভিজ্ঞতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতাই পার্থক্য গড়ে দেয়। নিউজিল্যান্ড সেই পরীক্ষায় সফল হয়েছে, আর আফগানিস্তান দেখিয়েছে তারা আর কোনো অংশেই পিছিয়ে নেই।
সংক্ষিপ্ত স্কোরলাইন
আফগানিস্তান: ১৮২/৬ (২০ ওভার)
নিউজিল্যান্ড: ১৮৩/৫ (১৭.৫ ওভার)
ফলাফল: নিউজিল্যান্ড ৫ উইকেটে জয়ী
ভেন্যু: এম. এ. চিদাম্বরম স্টেডিয়াম, চেন্নাই
আরো পড়ুন: ইংল্যান্ড বনাম নেপাল: মাত্র ৪ রানে হার, কিন্তু বিশ্ব জয় নেপালের |টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬
