চ্যাম্পিয়ন্স লিগ প্লে-অফ: মনাকোর বিপক্ষে নাটকীয় লড়াইয়ে এগ্রিগেট জিতে শেষ ষোলোয় পিএসজি |ফুটবল নিউজ বাংলা



পিএসজি বনাম মোনাকো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ প্লে-অফে রোমাঞ্চকর ফরাসি দ্বৈরথ

২০২৫-২৬ মৌসুমের UEFA চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নকআউট প্লে-অফে ফুটবলপ্রেমীরা উপভোগ করলেন পিএসজি ও মোনাকোর মধ্যে দারুন একটা উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই। দুই লেগের নির্ধারণী লড়াইয়ে পিএসজি এবং মোনাকো মুখোমুখি হয় রাউন্ড অব ১৬-এ ওঠার লক্ষ্যে। দ্বিতীয় লেগটি শেষ হয় ২-২ সমতায়, তবে এগ্রিগেট স্কোরে ৫-৪ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে পিএসজি নিশ্চিত করে পরবর্তী পর্বে জায়গা।

এই ম্যাচ ছিল শুধু গোলের গল্প নয় এটি ছিল মানসিক শক্তি, কৌশলগত পরিবর্তন এবং চাপের মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক বাস্তব পরীক্ষা।

ম্যাচ ফলাফল ও গোলের সময়সূচি

দ্বিতীয় লেগ ফলাফল:
পিএসজি ২-২ মোনাকো
এগ্রিগেট: পিএসজি ৫-৪ মোনাকো

পিএসজি গোলদাতা:

  • মারকিনহোস (৬০’)

  • খভিচা কভারাতসখেলিয়া (৬৬’)

মোনাকো গোলদাতা:

  • মাঘ্নেস আক্লিওউচে (৪৫’)

  • জর্দান টেজে (৯০+১’)

প্রথম লেগে পাওয়া লিডই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয়। দ্বিতীয় লেগে মনাকো শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করলেও সময় তাদের পক্ষে ছিল না।

ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট: রেড কার্ড ও ছন্দ পরিবর্তন

প্রথমার্ধে মোনাকো ছিল আত্মবিশ্বাসী। ৪৫ মিনিটে আক্লিওউচের গোল তাদের এগ্রিগেটে সমতায় ফিরিয়ে আনে। বিরতির সময় মনে হচ্ছিল ম্যাচটি পুরোপুরি উন্মুক্ত।

তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নাটকীয় মোড়। মোনাকোর মাঝমাঠের খেলোয়াড় মামাদু কুলিবালি দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। দশ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর মোনাকোর রক্ষণভাগে চাপ বাড়তে থাকে।

এই সুযোগ কাজে লাগাতে সময় নেয়নি পিএসজি। ৬০ মিনিটে কর্নার থেকে মারকিনহোসের শক্ত হেড দলকে সমতায় ফেরায়। মাত্র ছয় মিনিট পর খভিচা কভারাতসখেলিয়া দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টায় গোল করে পিএসজিকে এগিয়ে দেন।

এই দুই গোলই কার্যত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বদলে দেয়।

কৌশলগত বিশ্লেষণ: লুইস এনরিকে বনাম মনাকোর রণকৌশল

পিএসজির কোচ দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণাত্মক উইং প্লে বাড়ান। ফুল-ব্যাকদের ওভারল্যাপ এবং মিডফিল্ডে দ্রুত পাসিং গেম মনাকোর ডিফেন্সকে টেনে বের করে আনে। বিশেষ করে কভারাতসখেলিয়ার ইনভার্টেড রান বারবার সমস্যা তৈরি করে।

মনাকো প্রথমার্ধে হাই-প্রেসিং কৌশলে সফল ছিল। তারা মিডফিল্ড ব্লক করে পিএসজির বিল্ড-আপ ধীর করে দেয়। কিন্তু একজন কমে যাওয়ার পর সেই প্রেসিং আর ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।

শেষ মুহূর্তে ৯০+১ মিনিটে টেজের গোল আবার উত্তেজনা বাড়ালেও সেটি ছিল অনেকটা দেরিতে পাওয়া সাফল্য।

মানসিক দৃঢ়তা: চ্যাম্পিয়নস ডিএনএ

গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পিএসজির উপর ছিল বাড়তি প্রত্যাশা। চাপের মুহূর্তে দলটি ভেঙে পড়েনি বরং সংগঠিত ফুটবল খেলে ম্যাচ ঘুরিয়েছে। মারকিনহোসের নেতৃত্ব, মিডফিল্ডের নিয়ন্ত্রণ এবং উইং আক্রমণের গতিশীলতা দেখিয়েছে কেন তারা ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর একটি।

মনাকোর তরুণ স্কোয়াডও প্রশংসার দাবিদার। একজন কম নিয়েও তারা লড়াই চালিয়ে গেছে এবং শেষ মিনিটে গোল করে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মান বজায় রেখেছে।

রাউন্ড অব ১৬ সামনে

এগ্রিগেট ৫-৪ ব্যবধানে জয়ের ফলে পিএসজি এখন রাউন্ড অব ১৬-এ। সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে উঠে আসতে পারে ইউরোপের শক্তিশালী ক্লাবগুলো। টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে প্রতিটি ম্যাচই হবে উচ্চমানের ট্যাকটিক্যাল যুদ্ধ।

মনাকো বিদায় নিলেও তাদের পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়। তরুণ খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে বড় মঞ্চে কাজে আসবে।

সারসংক্ষেপ

  • ম্যাচ ফল: পিএসজি ২-২ মোনাকো

  • এগ্রিগেট: পিএসজি ৫-৪

  • টুর্নামেন্ট: UEFA চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২০২৫-২৬ 

  • ফলাফল: পিএসজি রাউন্ড অব ১৬-এ উত্তীর্ণ

এই ম্যাচ প্রমাণ করেছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ছোট ভুলও বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। মোনাকোর রেড কার্ড ছিল টার্নিং পয়েন্ট, আর পিএসজি দেখিয়েছে সুযোগকে কিভাবে সাফল্যে রূপান্তর করতে হয়।

ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের উত্তেজনা এখন আরও বাড়বে। সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন লড়াই আর ফুটবল প্রেমীরা আরো উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ দেখার জন্য অধীর আগ্রহে বসে আছে। 


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url