হ্যারি ব্রুকের সেঞ্চুরি, ইংল্যান্ডের ২ উইকেটের নাটকীয় জয় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে |টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬




আইসিসি পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ সুপার এইট: পাকিস্তান বনাম ইংল্যান্ড রোমাঞ্চকর জয়ে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড

আইসিসি পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ এর সুপার এইট পর্বে ক্রিকেটপ্রেমীরা উপভোগ করলেন এক দারুণ হাই-ভোল্টেজ লড়াই। শ্রীলঙ্কার পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ৪৫তম ম্যাচে পাকিস্তান ও ইংল্যান্ড মুখোমুখি হয়। উত্তেজনায় ভরপুর এই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ২ উইকেটের নাটকীয় জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড, নিশ্চিত করে সেমিফাইনালের টিকিট। বিশ্বকাপ ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর তালিকায় সহজেই জায়গা করে নিতে পারে এই লড়াই।

ম্যাচের সারসংক্ষেপ

  • ভেন্যু: পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, শ্রীলঙ্কা

  • তারিখ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

  • পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৬৪/৯

  • ইংল্যান্ড: ১৯.১ ওভারে ১৬৬/৮

  • ফলাফল: ইংল্যান্ড ২ উইকেটে জয়ী

  • ম্যান অব দ্য ম্যাচ: হ্যারি ব্রুক

টস ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত

পাকিস্তান টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। কাগজে-কলমে সিদ্ধান্তটি নিরাপদ মনে হলেও ম্যাচের পরিস্থিতি বিশেষ করে ডিউ ফ্যাক্টর শেষ পর্যন্ত বড় প্রভাব ফেলে। দ্বিতীয় ইনিংসে বল ভেজা হয়ে যাওয়ায় বোলারদের জন্য লাইন-লেন্থ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে, যা ইংল্যান্ডের রান তোলাকে কিছুটা সহজ করে দেয়।

অন্যদিকে ইংল্যান্ড শুরু থেকেই পরিকল্পিত ক্রিকেট খেলে। তারা জানত ১৬৫ রানের লক্ষ্য নাগালের মধ্যেই, তবে উইকেট ধরে রেখে ম্যাচ গভীরে নিতে হবে এবং ঠিক সেটাই তারা করেছে।

পাকিস্তানের ইনিংস: সম্ভাবনা থাকলেও পূর্ণতা নয়

পাকিস্তানের ইনিংসের শুরুটা ছিল ধীর। পাওয়ারপ্লেতে বড় ঝড় তুলতে না পারলেও মিডল ওভারে কিছুটা গতি আসে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন সাহিবজাদা ফারহান ৪৫ বলে ৬৩ রানের কার্যকর ইনিংস। তার ব্যাট থেকে আসে কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি ও ছক্কা, যা দলকে লড়াই করার মতো পুঁজি এনে দেয়।

অধিনায়ক বাবর আজম ২৫ রান করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ফখর জামান কিছুটা আক্রমণাত্মক ভূমিকা রাখলেও ধারাবাহিকতা ছিল না। শেষ পাঁচ ওভারে প্রত্যাশিত গতিতে রান না ওঠায় স্কোর ১৬৪/৯-এই থেমে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, ১৮০ এর কাছাকাছি স্কোর হলে ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতে পারত। তবুও বোলারদের ওপর আস্থা রেখেই পাকিস্তান মাঠে নামে।

ইংল্যান্ডের ইনিংস: হ্যারি ব্রুকের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি

রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই কিছুটা চাপে পড়ে ইংল্যান্ড। দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা বাড়ে। কিন্তু অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক ছিলেন অন্য মেজাজে। ৫১ বলে ১০০ রানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে তিনি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন।

তার ইনিংসে ছিল নিখুঁত টাইমিং, ক্যালকুলেটেড রিস্ক এবং ম্যাচ সেন্স। মিডল ওভারে তিনি স্ট্রাইক রোটেট করে স্কোরবোর্ড সচল রাখেন, আর সুযোগ পেলেই বড় শট খেলেন। তার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন উইল জ্যাকস, যিনি চাপের মুহূর্তে স্থির ব্যাটিং করে দলের ভিত মজবুত করেন।

শেষ ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায় সহজ, এবং ১৯.১ ওভারে ১৬৬/৮ করে ইংল্যান্ড জয় নিশ্চিত করে। ডাগআউটে তখন উৎসবের আবহ কারণ এই জয় সরাসরি সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে দেয়।

গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান

পাকিস্তান

  • ২০ ওভারে ১৬৪/৯

  • ফারহান: ৬৩ (৪৫)

  • শেষ ৫ ওভারে তুলনামূলক কম রান

ইংল্যান্ড

  • ১৯.১ ওভারে ১৬৬/৮

  • হ্যারি ব্রুক: ১০০ (৫১)

  • চাপের মধ্যে সফল রান তাড়া

ম্যাচের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ

এই জয়ের মাধ্যমে ইংল্যান্ড সুপার এইট থেকে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছে যায়। তাদের ব্যাটিং গভীরতা, মানসিক দৃঢ়তা ও নেতৃত্বের গুণ আবারও প্রমাণিত হয়।

অন্যদিকে পাকিস্তানের জন্য এটি ছিল বড় ধাক্কা। নেট রানরেট ও পরবর্তী ম্যাচের ফলাফলের ওপর তাদের ভাগ্য নির্ভর করতে শুরু করে। দলীয় সমন্বয় ও মিডল অর্ডারের পারফরম্যান্স নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে তাদের টিম ম্যানেজমেন্টকে।

কৌশলগত বিশ্লেষণ

১. ডিউ ফ্যাক্টর: দ্বিতীয় ইনিংসে বল গ্রিপ করতে সমস্যা হওয়ায় বোলাররা ভুগেছেন।
২. মিডল ওভার কন্ট্রোল: ব্রুক যেভাবে ইনিংস গড়েছেন, তা আধুনিক টি-টোয়েন্টি ব্যাটিংয়ের নিখুঁত উদাহরণ।
৩. চাপ সামলানো: শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গভীরে নেওয়ার মানসিকতা ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দিয়েছে।

উপসংহার

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মানেই অনিশ্চয়তা, নাটকীয়তা ও আবেগ এবং পাকিস্তান বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচটি তার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। ১৬৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ২ উইকেটে জয় তুলে নেওয়া শুধু স্কোরবোর্ডের সাফল্য নয়; এটি ছিল কৌশল, নেতৃত্ব ও আত্মবিশ্বাসের জয়।

হ্যারি ব্রুকের সেঞ্চুরি এই ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখবে দীর্ঘদিন। অন্যদিকে পাকিস্তানের জন্য এটি আত্মসমালোচনার মুহূর্ত কারণ বড় টুর্নামেন্টে ছোট ভুলও বড় মূল্য চোকাতে  হয়।

ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এটি ছিল এক অবিস্মরণীয় সন্ধ্যা, যা প্রমাণ করে বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষ বল না হওয়া পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত নয়।

আপনাদের যদি আর্টিকেলটা ভালো লেগে থাকে তাহলে পরিচিতদের সাথে শেয়ার করতে পারেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url