ওমরজাইয়ের ৪ উইকেটে রুদ্ধশ্বাস জয়, সুপার এইটের দৌড়ে এগিয়ে আফগানিস্তান |টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬
আফগানিস্তান বনাম সংযুক্ত আরব আমিরাত: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ রুদ্ধশ্বাস জয়, ওমরজাইয়ের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে সুপার এইটের পথে আফগানরা
২০২৬ সালের আইসিসি মেন্স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ-এর গ্রুপ ডি-র ২৮তম ম্যাচে আফগানিস্তান ও ইউএই-এর লড়াই ছিল টুর্নামেন্টের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। ১৬ ফেব্রুয়ারি, দিল্লির ঐতিহাসিক অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম-এ অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেটের নাটকীয় জয় তুলে নেয় আফগানিস্তান।
এই জয় শুধু দুই পয়েন্টই এনে দেয়নি, বরং সুপার এইটে ওঠার দৌড়ে আফগানদের আত্মবিশ্বাসও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ম্যাচ সারসংক্ষেপ: লড়াই, প্রত্যাবর্তন ও নিয়ন্ত্রণ
টস জিতে ইউএই প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। শুরুটা ভালো না হলেও মধ্যভাগে ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে তারা তোলে ১৬০ রান—যা টি-টোয়েন্টি ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ স্কোর হিসেবে ধরা যায়।
আফগানিস্তানের জবাব ছিল হিসেবি ও পরিণত। কিছুটা চাপের মধ্যে পড়লেও শেষ পর্যন্ত ১৯.২ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬২ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে তারা।
ইউএই ইনিংস: সোহাইব খানের দায়িত্বশীল ব্যাটিং
ইউএই ইনিংসের শুরুটা ছিল হতাশাজনক। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই দুই ওপেনার দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। তবে এরপর হাল ধরেন সোহেব খান। তিনি ৪৮ বলে ৬৮ রানের এক দারুণ ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৬টি চার ও ৪টি ছক্কা। তার ব্যাটিংয়ে ছিল ধৈর্য ও আক্রমণের চমৎকার সমন্বয়।
তাকে সমর্থন দেন আলিশান শরাফু, যিনি গুরুত্বপূর্ণ ৪০ রান যোগ করেন। এই জুটি না থাকলে ইউএই ১৪০-১৫০ রানের বেশি তুলতে পারত না।
তবে শেষের দিকে আফগান বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে রান তোলার গতি কমে যায়। বিশেষ করে ডেথ ওভারে উইকেট হারানো ইউএই-র সম্ভাব্য বড় স্কোরকে আটকে দেয়।
ওমরজাইয়ের আগুনে স্পেল: ম্যাচ ঘোরানো মুহূর্ত
এই ম্যাচের প্রকৃত নায়ক ছিলেন আজমতুল্লাহ ওমরজাই। বল হাতে তিনি ৪ উইকেট নিয়ে ইউএই-কে বড় সংগ্রহ গড়তে দেননি। তার লাইন-লেংথ ছিল নিখুঁত এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের গতি বদলে দেন।
ডেথ ওভারে তার করা স্পেলই মূলত ইউএই-র ১৭৫+ সম্ভাবনাকে ১৬০-এ সীমাবদ্ধ করে। এজন্যই ম্যাচ শেষে তাকে ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত করা হয়।
আফগানিস্তানের রানচেজ: জাদরানের দৃঢ়তা
১৬১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই একটি উইকেট হারায় আফগানিস্তান। কিন্তু ওপেনার ইব্রাহিম জাদরান ইনিংসকে স্থিতিশীল করেন। তিনি ৪১ বলে ৫৩ রানের ইনিংস খেলেন, যা ছিল দলের জয়ের ভিত।
তার ব্যাটিংয়ে ছিল আত্মবিশ্বাস, সঠিক শট নির্বাচন এবং স্ট্রাইক রোটেশনের দক্ষতা। মাঝের ওভারগুলোতে রান রেট নিয়ন্ত্রণে রাখাই ছিল মূল কৌশল।
শেষদিকে যখন ম্যাচ আবার কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে, তখন ওমরজাই ব্যাট হাতে ৪০ রানের গুরুত্বপূর্ণ ক্যামিও খেলেন। তার দ্রুত রান সংগ্রহ ম্যাচটিকে আফগানিস্তানের দিকে ঝুঁকিয়ে দেয়।
ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট
ওমরজাইয়ের ৪ উইকেট—বিশেষ করে মধ্য ও ডেথ ওভারে।
সোহাইব খানের আউট হওয়ার পর ইউএই-র রান রেট হ্রাস।
জাদরানের অর্ধশতক—চাপের মধ্যে ইনিংস গড়ে তোলা।
শেষ দুই ওভারে আফগানদের শান্ত ও পরিকল্পিত ব্যাটিং।
পয়েন্ট টেবিলে প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
এই জয় আফগানিস্তানকে গ্রুপ ডি-তে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়। সুপার এইটে ওঠার সম্ভাবনা এখন অনেকটাই উজ্জ্বল। অন্যদিকে ইউএই লড়াই করলেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি।
আফগানিস্তানের জন্য এই জয় শুধু পরিসংখ্যান নয়—এটি একটি মানসিক বার্তা। বড় মঞ্চে চাপ সামলে জয় ছিনিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা তারা দেখিয়েছে।
ইউএই-র জন্য এটি শিক্ষা নেওয়ার ম্যাচ। তরুণ দল হিসেবে তারা লড়াই করেছে, যা ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক সংকেত।
উপসংহার
দিল্লির আলো ঝলমলে এই স্টেডিয়ামে আফগানিস্তান প্রমাণ করেছে কেন তারা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে। আজমতুল্লাহ ওমরজাই-এর অলরাউন্ড পারফরম্যান্স এবং ইব্রাহিম জাদরান-এর দায়িত্বশীল ব্যাটিং এই ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখবে।
ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এটি ছিল রোমাঞ্চ, কৌশল ও মানসিক দৃঢ়তার এক অনন্য উদাহরণ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ সামনে আরও বড় লড়াই অপেক্ষা করছে—আর এই জয়ের মাধ্যমে আফগানিস্তান জানিয়ে দিল, তারা শুধু অংশ নিতে নয়, জিততেও এসেছে।
