দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডের জয় |ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড|




ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড — দ্বিতীয় ওয়ানডে: রাজকোটে নাটকীয় লড়াই

২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি, ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ মাঠে গড়ালো রাজকোটের নিরঞ্জন শাহ স্টেডিয়ামে। এই ম্যাচ ক্রিকেট প্রেমীদের কাছে ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ — কারণ সিরিজে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ভারতকে সিরিজ নিশ্চিত করতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হতো, আর নিউজিল্যান্ড চাইছিল সিরিজকে ১–১ করে শিরোপার লড়াইকে টগবগে রাখতে। কিন্তু যা হলো তা ছিল কদিন ধরে আলোচিত ক্রিকেটীয় কাহিনি—একটি অনন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা, অসাধারণ ব্যাটিং, রেকর্ড ভাঙ্গা পারফরম্যান্স এবং শেষ পর্যন্ত সিরিজ সমতা। 

টস এবং স্থিরতার দিক

নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক মাইকেল ব্রেসওয়েল টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন, যা ছিল স্পষ্ট সংকেত যে কিউই দলটি প্রথমে বল দিয়ে ভারত ব্যাট করতে বাধ্য করবে। এ সিদ্ধান্ত তাদের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণিত হয়, কারণ পরবর্তীতে ভারত ব্যাটিং অর্ডারে চাপের মধ্যে পড়ে। 

ভারতীয় ইনিংস: সংগ্রাম ও রাহুলের শান

ভারত প্রথমে ব্যাট করার সুযোগ পায়। শুরুতে ওপেনিং জুটি রোহিত শর্মাশুভমান গিল ভালভাবে শুরু করলেও, মিডল-অর্ডারে কিছুটা চাপের মুখে পড়ে দল। তখনই একদম দলে বিশাল অবদান রাখেন কেএল রাহুল। তিনি ভারতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে স্থায়ীভাবে স্কোর বোর্ডে যে পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, তা আবারও সাক্ষ্য দিলেন—নিজের ৮ম ওয়ানডে শতরানটি (১১২ রান) তিনি করেন। 

রাহুলের এই ইনিংস ৮৭ বল মোকাবিলা করে আসে এবং এতে ছিল ১১টি ফোর ও ১টি সিক্স। তিনি ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন, এবং এই শতরানটি তিনি উইকেটকিপার হিসাবে ভারতের হয়ে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ODI শতরান হিসাবে ইনিংসের তালিকায় নাম লেখান। 

ভারতের ইনিংস মোটেও সহজ ছিল না—কিছু ক্ষেত্রে চাপের মুখে রান তুলতেও দল ঝুঁকিতে পড়ে গেলো। কিন্তু রাহুলের ইনিংসের কারণে ভারত শেষ পর্যন্ত ২৮৪/৭ রান সংগ্রহ করে, যা নিউজিল্যান্ডের সামনে একটি সম্মানজনক স্কোর হিসেবে দাঁড়ায়। 

নিউজিল্যান্ডের জবাব: দুর্দান্ত রানচেজ

প্রতিপক্ষ হিসেবে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস শুরু হয় কিছুটা ধীর গতিতে। প্রথমদিকে দুই উইকেটও তারা হারায় খরচ কম রাখার বিনিময়ে। কিন্তু পরের দিকে ড্যারিল মিচেল এবং উইল ইয়ং—দুই তারকা ব্যাটসম্যান—ম্যান অফ দ্য ম্যাচ-মানের একটি জুটি গড়ে তুলে দারুণ লড়াই চালান। 

ড্যারিল মিচেল একটি অসাধারণ ইনিংস খেলেন—১১৭ বল মোকাবিলা করে অপরাজিত ১৩১ রান। এই ইনিংসটি শুধু NZ-কে জয় এনে দেয়নি, একই সঙ্গে এটি ছিল নিউজিল্যান্ড ইতিহাসে ভারতে সর্বোচ্চ ম্যাচ জয়ের লক্ষ্য পূরণের একটি অন্যতম সেরা রানের চেজ। 

তার ওপাশে উইল ইয়ংও অবদান রাখেন ৮৭ রানে, এবং তাদের মধ্যকার ১৬২ রান জুটিটি ছিল ম্যাচের মূখ্য ঘূর্ণিপাক। এই জুটি ম্যাচের ভাগ্য সম্পূর্ণ বদলে দেয় এবং NZ-কে শুধু জয়ই দেয় না, বরং শেষ পর্যন্ত সিরিজ ১–১ সমতায় এনে দিয়ে তৃতীয় ও নিকটবর্তী ম্যাচকে একটি মহারণে পরিণত করে। 

ফলাফল ও পরিণতি

নিউজিল্যান্ড শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেট হারিয়ে ২৮৬/৩ রান করে এবং মাত্র ১৫ বল বাকি থাকতে লক্ষ্য হাসিল করে নেয়—এমন একটি কঠিন পরিস্থিতি থেকে। এটি ছিল একটি খুব সঙ্গতিপূর্ণ রানচেজ, যেখানে দারুণ পরিকল্পনা ও কার্যকর ব্যাটিং স্পষ্ট। ভারতীয় দলের বোলিং আক্রমণে কিছুটা অনভিজ্ঞতা ও মিডল-অর্ডারের ব্যর্থতার প্রভাবও দেখা যায়। 

ব্যাক্তিগত ও দলের মাইলফলক

এই ম্যাচটি শুধু একটি সাধারণ ওয়ানডে ছিল না—এতে ভুলে না যাওয়া রেকর্ড ভাঙ্গা মুহূর্তগুলোও নজরে আসেছিল। উদাহরণস্বরূপ—

  • ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি এই ম্যাচে একটি বড় রেকর্ড ভাঙেন—তিনি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ODIs-এ সচিন তেন্ডুলকরের পর সবচেয়ে বেশি রান সংগ্রাহক ভারতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে নাম লেখান। এটা ছিল তার এক অনন্য অর্জন, যা তাকে বিশ্বের অন্যতম  ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রমাণ করে। 

ম্যাচ থেকে নেওয়া শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ

এই ম্যাচটি ভারতীয় দলের জন্য খুব একটা সুখকর না হলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে। সাবলীলভাবে শুরু করে, চাপের মুহূর্তগুলোতে ব্যাটিং অনিশ্চয়তা এবং শেষ পর্যন্ত সামান্য ভুল সিদ্ধান্ত NZ-কে সুযোগ দিয়েছে দলের শক্তি ও দুর্বলতা উভয়েরই পরীক্ষা নেয়। তারা এখন তৃতীয় ম্যাচে আবারো সিরিজ জয়ের জন্য এক সুযুক্ত অবস্থানে থাকবে। একই সঙ্গে NZ-এর জন্যও এটি একটি আত্মবিশ্বাসী জয়—যেখানে তারা কঠিন পরিস্থিতি থেকে লড়াই করে সিরিজকে জীবিত রাখতে সফল হয়েছে। 

সংক্ষেপ:
দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে নিউজিল্যান্ড ৭ উইকেটে জয়ী হয়ে সিরিজ ১–১ করে, যেখানে কেএল রাহুলের শতরান ভারতকে সম্মানজনক স্কোর এনে দিলেও ড্যারিল মিচেলের ১৩১* NZ-কে সিরিজে ফিরিয়ে আনে। কোহলির নতুন রেকর্ড এবং ম্যাচে বিভিন্ন মাইলফলক এই সিরিজকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করেছে। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url