নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে জয় ভারতের |আজকের ক্রিকেট আপডেট|
ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড — প্রথম ওয়ানডে (1st ODI) রোমাঞ্চকর ডুয়েল
২০২৬ সালের ১১ জানুয়ারি ভদোদরার কোটাম্বি স্টেডিয়ামে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ব ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরেই ভারত ও নিউজিল্যান্ডের দ্বৈরথ স্বীকৃত; দুটো দলই সাদা বলের ক্রিকেটে শক্তিশালী এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়ে থাকে। বিশেষত কারণ এটি টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬’র প্রস্তুতি ম্যাচ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
🏏 দল নির্বাচন ও টস
ম্যাচ শুরুর আগে ভারতের টিম ম্যানেজমেন্ট ও নিউজিল্যান্ড দলে বিভিন্ন আলোচ্য বিষয় ছিল। ভারতীয় স্কোয়াডে ঋষভ পন্থ সহ যেসব তারকা খেলোয়াড়কে রাখা হয়েছিল, তাদের অবস্থান ছিল অল-টাইম প্রতীক্ষিত। নিউজিল্যান্ডের দলে টপ ব্যাটসম্যান কনে উইলিয়ামসন অনুপস্থিত থাকায় কিছুটা সমীকরণ ভিন্ন ছিল।
টস জিতে ভারত অধিনায়ক শুভমন গিল বোলিং এর সিদ্ধান্ত নেয় — একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত যা ম্যাচের ডাইনামিক্সকে তুলে ধরে। ব্যাটিংয়ের পরিবর্তে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া সেই পর্যায়ে নিউজিল্যান্ডকে চাপ দিতে পারে, বিশেষ করে ভদোদরার পিচে সকালের কন্ডিশনে।
🏟 পিচ ও আবহাওয়া
ভদোদরার কোটাম্বি স্টেডিয়ামে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বড় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ায় স্থানীয় খেলা ও পিচ সম্পর্কে আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। পিচ সাধারণত ব্যাটসম্যানদের সুবিধার হলেও সকাল থেকে হালকা ভেজা ও বাকি আবহাওয়া বোলারদের কিছু সাহায্য করেছিল; ফলে টস জিতে বল করার সিদ্ধান্তটি যুক্তিসংগত হতে পারে বলে ভাবা হচ্ছিল।
নিউজিল্যান্ডের ইনিংস
ব্যাট করতে নেমে তারা একটি প্রতিযোগিতামূলক স্কোর তোলার চেষ্টা করে। ওপেনিং জুটিতে হেনরি নিকোলস ও ডেভন কনওয়ে জোরালো শুরুর দিকে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন, যারা প্রথম উইকেটের জন্য ১১৭ রানের জুটি গড়ে দেন।
কিন্তু ভারতের বোলাররা মাঝের ওভারগুলোতে নিয়মিত উইকেট নিতে শুরু করেন। বোলিং ইউনিটে মোহাম্মদ সিরাজ ও হর্ষিত রানা ওয়েল ব্যালান্সড বোলিং প্রদর্শন করেন এবং দুইজনই দুটি করে উইকেট তুলে নেন। ড্যারিল মিচেল এর গুরুত্বপূর্ণ ৮৪ রানের ইনিংস, তবে শেষ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ড ৩০০/৮ রান সংগ্রহ করে।
এ স্কোর ওয়ানডেতে প্রতিযোগিতামূলক হলেও, এটি সহজেই জয়যোগ্য মনে হচ্ছিল যদি ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা ধীরে ধীরে রান সংগ্রহ করে।
🏏 ভারতের রান তাড়া: আবেদনময় অর্ধশতক ও উত্তেজনাপূর্ণ জয়
ভারতের ইনিংস শুরু হয় বেশ ধীর গতিতে; ওপেনাররা শুরুটা ভালো করেন না এবং কিছু উইকেটও হারায়। তবে শুভমন গিল ও বিরাট কোহলি দলকে একটি স্থিতিশীল অবস্থা ধরে রাখতে সাহায্য করেন। কোহলি একটি রোমাঞ্চকর ৯৩ রানের ইনিংস খেলেন, যেখানে তিনি ৯১ বল মোকাবেলা করে আটটি চার ও একটি ছক্কা মারেন, কিন্তু শতকের বাঁধ ভাঙতে পারেননি।
এছাড়াও শুভমন গিল ৫৬ রানে ভর করে অপর একজন শক্তিশালী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। শেষ দিকে কে এল রাহুল ও হর্ষিত রানা ব্যাটিং করে দলের রান তাড়া সম্পন্ন করেন। রাহুলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ছয় ও কিছু যুগোপযোগী রান দিয়ে ভারত ৪ উইকেট নিয়ে জয়ী হয় (৩০৬/৬), ম্যাচের শেষ ওভার পর্যন্ত উত্তেজনা ধরে রেখে।
প্রধান পারফরমার্স ও গুরুত্বপূর্ণ মাইলফল্য
বিরাট কোহলি:
কোহলির ৯৩ রানের ইনিংসটি ছিল ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস; তিনি দলের রান তাণ্ডবের মূল স্তম্ভ হয়ে উঠেন।
এই ম্যাচে তিনি ভারতীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে সর্বাধিক ওডিআই ম্যাচ খেলা (৩০৯তম) রেকর্ডে সৌরভ গাঙ্গুলীকে ছাপিয়ে যান।
রোহিত শর্মা:
রোহিত শর্মা এক অজানা রেকর্ডও সৃষ্টি করেন — তিনি আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশী ছয় হাঁকানো ওপেনার হিসেবে বিশ্ব রেকর্ড বজায় রাখেন, ক্রিস গেইলের রেকর্ড ছাড়িয়ে যান।
🎯 দলের সমন্বয়:
ভারত বোলিং বিভাগে দলের একটি ব্যালান্সড অ্যাটাক দেখিয়েছে; সিরাজ ও রানা বোলিং আক্রমণে বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে।
ফলাফল ও সিরিজের প্রভাব
এই ম্যাচ জয় করে ভারত তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে ১–০ এগিয়ে যায়। সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচগুলোও একইভাবে উত্তেজনাপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষত যখন এই সিরিজ টি২০ বিশ্বকাপের আগে একটি বড় প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এছাড়া ভারতীয় ক্রিকেটবাসীর জন্য এই জয় কঠিন পরিস্থিতিতেও মানসিক শক্তি ও দৃঢ়তার প্রতীক। সিরিজের সূচনা জয়ের ফলে ভারতীয় দলকে নিজের ঘরের মাঠে আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে পৌঁছেছে, এবং নিউজিল্যান্ড দলও পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য কিছু ট্যাক্টিক্যাল পরিবর্তনের চিন্তা করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
উপসংহার
ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড প্রথম ওয়ানডে ছিল ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য এক আনন্দঘন, উত্তেজনাপূর্ণ ও কৌশলগত দিক থেকে সমৃদ্ধ ম্যাচ। শক্তিশালী বোলিং, দমে ধরা ব্যাটিং, বিশ্বমানের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স — সব কিছুর সমন্বয়ে ৩০০+ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ভারত যে জয় তুলে নিয়েছে, তা আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটের একটি দারুণ উদাহরণ।
এ ধরনের ম্যাচ শুধু সিরিজের ফলাফলের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরঞ্চ খেলোয়াড়দের রেকর্ড ভাঙা ও ক্রিকেটের স্ট্র্যাটেজিক দিকগুলোও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচিত হয়।
আরো পড়ুন: শেষ টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলংকার জয় |শ্রীলঙ্কা বনাম পাকিস্তান|
