অ্যাশেজ সিরিজ: দ্বিতীয় টেস্টে জয় পেল অস্ট্রেলিয়া




অস্ট্রেলিয়া বনাম ইংল্যান্ড — ২য় টেস্ট (The Ashes 2025/26) রেজাল্ট ও বিশ্লেষণ 

গত ৪–৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ব্রিসবেনের The Gabba গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ২য় টেস্টে অস্ট্রেলিয়া আবারও ইংল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে ২-০ লিড নিয়েছে। 

 স্কোরকার্ড — চার ইনিংস

  • প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ড ৩৩৪ রান করেছে;

  • অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে ৫১১ রানে জবাব দিয়েছে;

  • দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ড ২৪১ রানে অল-আউট হয়েছে;

  • লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৫ রান, এবং অস্ট্রেলিয়া মাত্র ১০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৬৯/২ রানে জয় তুলে নিয়েছে। 

ফলাফল: অস্ট্রেলিয়া ৮ উইকেটে জয়ী। 

“ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়” — Mitchell Starc (অস্ট্রেলিয়া)। 

 পারফর্ম্যান্স

  • অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং দিয়েছে বিশেষ — Mitchell Starc করেন ৭৭ এবং Jake Weatherald ৭২ রান; শুরুতে তারা ৫০+ রান যোগ করেছে। 

  • ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে, Joe Root ১৩৮ রান করেছিলেন, আর Zak Crawley ৭৬ রান যোগ করেছিলেন — কিন্তু সেটা যথেষ্ট ছিল না। 

  • দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ডের পক্ষে কিছু সংগ্রাম হয়েছে: Ben Stokes ৫০ রান করে চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু Michael Neser (অস্ট্রেলিয়া) ৫–৪২ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের প্রতিরোধ ভেঙে দেন। 

  • অবশেষে, চেজে অস্ট্রেলিয়া দ্রুত কাজ সম্পন্ন করেছে: মাত্র ১০ ওভার — দলের জন্য একটি সহজ জয়। 

 ম্যাচের মাইলস্টোন এবং প্রভাব

  • এই জয়ের সঙ্গে, অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ২-০ এগিয়ে গিয়েছে — অর্থাৎ পরবর্তী তিন টেস্টেই ইংল্যান্ডের জন্য জয়ের সুযোগ তেমন সহজ হবে না। 

  • ইংল্যান্ডের পরিকল্পনা বরাবরই ছিল আক্রমণাত্মক “বাজবল” (Bazball) — কিন্তু এই ম্যাচে তারা তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারেনি। ইংল্যান্ড ব্যাটিং লাইন-আপ ভেঙে গেছে, এবং বোলাররা বড় উইকেট নিতে পারেনি। 

  • অস্ট্রেলিয়া যদিও প্রথম পছন্দের বোলার পুরো শক্তিতে ছিল না (কিছু তারকারা ছিলেন অনুপস্থিত), তবুও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে — যা ইংল্যান্ডের জন্য বাড়তি ধাক্কা। 

 বিশ্লেষণ — কেন ইংল্যান্ড হেরে গেল, অস্ট্রেলিয়া জিতল

  • Consistency in batting vs. collapse under pressure: ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে Root ও Crawley ভালো করেছিলেন — কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ভালো শুরু সত্ত্বেও মিডল-অর্ডার ভেঙে যায়। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে মিশ্র ব্যাটিং-বোলিং ভারসাম্য বজায় রাখতে পেরেছে।

  • অস্ট্রেলিয়ার স্মার্ট বোলিং পছন্দ: বিশেষ করে Neser-এর বোলিং ছিল অত্যন্ত কার্যকর। দিনের লাইট ম্যাচ ছিল এবং পিচে সুইং ও পেসিং সুবিধা ছিল, যা অস্ট্রেলিয়া কাজে লাগিয়েছে।

  • Match momentum and mental strength: প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহ + দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুত ইংল্যান্ডের ধস + চেজ সহজভাবে শেষ — সব মিলিয়ে momentum অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ছিল। ইংল্যান্ড কম সময়ে চাপ সামলাতে পারেনি।

  • রিজার্ভ প্লেয়ারের গুরুত্ব: যদিও অস্ট্রেলিয়া সব তারকা নাও খেলোয়াড় পেয়েছিল, তাদের ব্যাকআপদের মধ্যে সহিংস পারফরম্যান্স (যেমন Neser) ছিল, যা দলকে শক্তিশালী করেছে।

 ভবিষ্যৎ কি বলছে — সিরিজ এখন কী রূপ নিতে পারে

এই জয়ের ফলে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ২-০ এগিয়ে গেছে, এবং পরবর্তী টেস্টগুলোতে ইংল্যান্ডের জন্য ফিরে আসা খুবই চ্যালেঞ্জিং। ইংল্যান্ডকে তাদের ব্যাটিং এবং বল হাতে নিয়ে বড় পরিবর্তন আনার প্রয়োজন — একক বা ব্যাক্তিগত এক-দুটো পারফরম্যান্স দিয়ে হবে না, পুরো দল হিসেবে সংস্কার জরুরি।

অস্ট্রেলিয়া সম্ভবত একই মাটি ও কন্ডিশনে তাদের প্ল্যান বজায় রাখবে, এবং বলার অপেক্ষা নেই — যদি তারা ম্যানসেভারি ও অভিজ্ঞতার প্রভাব বজায় রাখতে পারে, তাহলে সিরিজ দ্রুতই তাদের দখলে চলে যেতে পারে।

তবে ক্রিকেটে সব সময়ই চমক থাকে — হয়তো ইংল্যান্ড আগামী ৩য় টেস্টে ব্যাক-টু-ব্যাক বড় সাফল্য এনে সিরিজ কে আকর্ষণীয় করে তুলবে।


আরো পড়ুন: অ্যাশেজ তৃতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার জয়

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url