অ্যাশেজ চতুর্থ টেস্টে জয় পেল ইংল্যান্ড
🏏 ম্যাচের সারসংক্ষেপ
২০২৫-২৬ মরশুমের ঐতিহ্যবাহী অ্যাশেজ সিরিজ-এর চতুর্থ টেস্টটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড (MCG)-এ, যা ২৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু করে মাত্র দুই দিনেই শেষ হয়ে যায়। এটি অ্যাশেজ ইতিহাসে অদ্ভুত ও নাটকীয় একটি টেস্ট হিসেবে সবার নজর কেড়েছে।
এই ম্যাচে ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড জাতীয় দল অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলে বিপক্ষে ৪ উইকেটে জয় তুলে নিয়েছে। এটিই ছিল ইংল্যান্ডের অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট জয়ের দীর্ঘ ১৫ বছরের দুঃখজনক অপেক্ষার সমাপ্তি – ২০১১ সালের পর প্রথমবার তারা এখানে টেস্ট ম্যাচ জিতল।
অস্ট্রেলিয়া ইতিমধ্যেই সিরিজ তিনটি টেস্টে জয়ী হওয়ায় অ্যাশেজ শিরোপা নিশ্চিত করে ফেলেছিল। যদিও চতুর্থ টেস্টে তারা হারের মুখে পড়েছে, তবুও ম্যাচটি প্রেক্ষাপটে তৈরি হলো ভিন্ন ধরণের উত্তেজনা ও নাটকীয়তার জন্য।
📊 ইনিংস ও রান-উইকেটের পরিস্থিতি
রম্য ও নাটকীয়তায় ভরা এই ম্যাচে প্রতিটি ইনিংসে কী ঘটেছিল – তা নিচে বিশদভাবে তুলে ধরা হলো:
🔹 প্রথম ইনিংস: অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে মোট ১৫২ রান করে অলআউট হয়।
ইংলিশ বোলিংয়ে জশ টং অন্যতম সফল বোলার ছিলেন।
এতে করে ইংল্যান্ড প্রথম ধাপেই সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করে।
🔹 ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংস
জবাবে ইংল্যান্ড ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১১০ রানেই অলআউট হয়ে যায়।
অস্ট্রেলিয়ার বোলার মাইকেল নেসার ও সহ-সহায়করা ইংলিশ ব্যাটিং ব্যর্থ করেন।
ফলে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসের শেষে প্রায় ৪২ রানের লিড নেয়।
🔹 দ্বিতীয় ইনিংস: অস্ট্রেলিয়া
বিপরীতে, অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৩২ রান করে অলআউট হয়।
এতে করে ইংল্যান্ডের সামনে ১৭৫ রানের জয়ের লক্ষ্য আসে।
এখানে পেসার জশ টং আবারও বোলিংয়ে দুর্দান্ত ভূমিকা রাখেন।
🔹 ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংস
ইংলিশ ব্যাটিং লাইন-আপ লক্ষ্য তাড়া করতে বাকি ছিল অনেক, কিন্তু তারা শেষ পর্যন্ত ১৭৮/৬ পরিনত করে এবং জয় নিশ্চিত করে।
এতে করে ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা পরিস্থিতি মাথায় রেখে ভালোভাবে রান তুলে দলকে জয়ের কাছে পৌঁছে দেন।
🎯 খেলার সিদ্ধান্ত ও অপরাজিত খেলোয়াড়
ইংল্যান্ডের পক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে রান তোলায় জ্যাকব বেটহেল, জাহান ক্রোলি এবং বেন ডাকেট সহ অন্যদের অঙ্গীকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শেষ পর্যায়ে হ্যারি ব্রুক ও জেমি স্মিথ ম্যাচ জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নির্ধারণী রান যোগ করেন।
ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় (Player of the Match) হিসেবে জশ টংকে মনোনীত করা হয়েছে, যিনি তার বোলিং কর্মক্ষমতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
গুরুত্বপূর্ণ দিক ও বিশ্লেষণ
এই ম্যাচের দিনভর নাটকীয়তার যে কয়েকটি দিক ছিল, সেগুলো:
টেস্টের দুই দিনের ভিতর সমাপ্তি
– এই টেস্ট মাত্র দুই দিনে শেষ হয়েছে, যা টেস্ট ক্রিকেটে খুবই অস্বাভাবিক। এই ধরনের শঙ্কা-উৎপাদন ম্যাচ দীর্ঘসূত্রে খুব কমই ঘটে থাকে।
📉 অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং
– অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং অর্ডার ঠিকভাবে নড়বড়ে অবস্থায় খেলায় নামায় তারা বড় সংগ্রহ করতে পারে নি, বিশেষত দ্বিতীয় ইনিংসে ভাঙনের কারণে বড় রান তোলা সম্ভব হয়নি।
🏟️ দর্শক ও অর্থনৈতিক প্রভাব
– মেলবোর্নে টেস্টের দ্বিতীয় দিনেই শেষ হওয়া টুর্নামেন্টে বড় সংখ্যক দর্শক উপস্থিত হয়েছিল, কিন্তু তৃতীয় দিন না হওয়ায় কোম্পানির অর্থনৈতিক ক্ষতি হওয়ার বিষয়েও সংবাদে উঠে এসেছে।
দীর্ঘকালের হিসাব
– ইংল্যান্ডের জন্য এই জয় ছিল শুধু সিরিজের অন্যতম একটি ম্যাচ জেতা নয়; এটি ১৫ বছর পর প্রথম অ্যাশেজ টেস্ট জয় অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে হওয়া। আগের জয়টি হয়েছিল ২০১১ সালের সিরিজে।
উপসংহার
মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত অ্যাশেজ সিরিজের চতুর্থ টেস্ট ম্যাচটি ছিল ব্যতিক্রমী ও উত্তেজনাপূর্ণ:
✔️ অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস ও দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিং যথাক্রমে 152 ও 132 ছিল, যেখানে ইংল্যান্ড তাদের প্রথম ইনিংস মাত্র 110 করে অলআউট হয়েছিল।
✔️ দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ড নির্ধারিত 175 রানের লক্ষ্য তাড়া করে 178/6 করে জয় নিশ্চিত করে।
✔️ এটি ইংল্যান্ডের ১৫ বছরের মাটিতে টেস্ট জয়–এর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান।
✔️ ম্যাচটি মাত্র দুই দিনে শেষ হওয়ায় টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।
অ্যাশেজ সিরিজ এখন ৩-১ দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার নাগালে। পরবর্তী ও শেষ টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে, যার জন্য উভয় দলের প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই শুরু।
আরো পড়ুন: অ্যাশেজ পঞ্চম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার অসাধারণ জয়
