দক্ষিণ আফ্রিকা ভারতের পঞ্চম টি-টোয়েন্টির ফলাফল




🏏 ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা: পঞ্চম টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের পূর্ণ ম্যাচ রিপোর্ট

ভারত ক্রিকেট দল এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক (T20I) সিরিজে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আহমেদাবাদে নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে। এই ম্যাচটি ছিল সিরিজের সমাপ্তি ম্যাচ যেখানে সিরিজের স্কোর ২-১ অবস্থায় ভারতের পক্ষে। সিরিজের ভাগ্য শেষ ম্যাচে ঠিকই নির্ধারিত হলো। ভারতীয় দল এই ম্যাচ জয় করে সিরিজ ৩-১ ব্যবধানে জিতেছে

ম্যাচের ভেন্যু ও পরিস্থিতি

 শেষ ম্যাচটি ছিল একটি নাইট ম্যাচ। আবহাওয়া ও মাঠ পরিস্থিতি বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল কারণ আবহাওয়ার কারণে স্কোরলাইন ভারী রানসহ সম্ভাব্য নজরকাড়া গতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা দল জেতার জন্য লক্ষ্যমাত্রা অনুসরণ করতে নেমে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়।

 টস ও খেলার প্রথম পর্ব (ব্যাটিং)

 ভারতীয় ইনিংস

ভারত টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং পুরো ২০ ওভারে ২৩১/৫ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে। ভারতীয় দলের ব্যাটিং ব্যবস্হাপনা ছিল আক্রমণাত্মক এবং গতিশীল। দলের ওপেনিং জুটি দ্রুত রান তুলেছে এবং বিশেষভাবে তিলক ভার্মা ৭৩ রানের ইনিংস (৪২ বল) এবং হার্দিক পাণ্ড্য ৬৩ রানের ঝলক (২৫ বল) দ্বারা ভারতীয় সংগ্রহকে ২০০ রানের উপরে নেওয়া সম্ভব হয়। এই দুই ব্যাটসম্যানের উপর ভর করে ভারত একটি চমৎকার বেস তৈরি করতে সক্ষম হয় যা পাঁচ ম্যাচের সিরিজের পঞ্চম ম্যাচের জন্য বড় লক্ষ্যমাত্রা স্থাপন করেছে।

হার্দিক পাণ্ড্যার ইনিংসটি ছিল বিশেষভাবে নজরকাড়া। মাত্র ১৬ বলেই তিনি অর্ধশতক পূর্ণ করেন, যা ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম টি-টোয়েন্টি অর্ধশতকের মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচিত হয়।

 দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা (চেজিং)

দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে লক্ষ্য ছিল ২৩২ রান। তারা শুরুতে কিছুটা আক্রমণাত্মক ভূমিকা পালন করেছিল, এবং ওপেনার কুইন্টন ডি কক ৬৫ রানের একটি সাহসী ইনিংস খেলেন। তিনি ওপেনিং জুটিকে শক্তিশালী করে তুলতে সক্ষম হন এবং দেওয়াল্ড ব্রেভিস-এর সাথে এর আগে ১১৭ রান তৈরি করে আবহাওয়ার অনুকূলে থাকা নিয়ে কিছুটা শঙ্কা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু ভারতীয় বোলাররা ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়। বিশেষ করে জসপ্রীত বুমরাহ এবং বারুণ চক্রবর্তী দক্ষিণ আফ্রিকার চেজকে বড় আকারে থামায় এবং ফলস্বরূপ দক্ষিণ আফ্রিকা সর্বোচ্চ ২০১/৮ রানেই নিজেদের ইনিংস শেষ করে।

 ম্যাচের ফলাফল

অবশেষে ভারত এই ম্যাচটি ৩০ রানে জিতে ফাইনাল ম্যাচ ও সিরিজ দুটোই নিজের নামে করল। ভারত ২৩১ রান করে এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ২০১ রানেই পিছিয়ে পড়ে। এই জয়ের ফলে ভারত ৫ ম্যাচের সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে জয় পায়।

 ভারতীয় দলের উজ্জ্বল পারফরম্যান্স

এই ম্যাচে ভারতীয় দলের পক্ষে বেশ কিছু ব্যাক্তিগত পারফরম্যান্স ছিল স্মরণীয়:

  • হাৰ্দিক পাণ্ড্য — তিনি ২৫ বলে ৬৩ রান করেন এবং সেই ইনিংসের জন্য ম্যান অফ দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন।

  • তিলক ভার্মা — ৪২ বলেই তিনি ৭৩ রান করে একটি শক্ত ভিত গড়ে দিলেন।

  • জসপ্রীত বুমরাহ — ব্যাটসম্যানদের কঠিন ইনিংস ব্যবহার করে ৪ ওভারে ১৭ রান খরচ করে ২ উইকেট লাভ।

  • ভারুণ চক্রবর্তী — চার উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে থামিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করেন।

📊 দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ

দক্ষিন আফ্রিকান পক্ষ থেকে কুইন্টন ডি কক ৩৫ বলে ৬৫ রান করে দলের সংগ্রহকে প্রতিযোগিতামূলক রাখতে সমর্থ হন। এছাড়াও Dewald Brevis কিছুটা সফল হলেও দলের হয়ে বড় পারফরম্যান্স দাঁড় করাতে পারেন নি।

 সামগ্রিক বিশ্লেষণ

এই ম্যাচে ভারতীয় দল তার ব্যাটিং ও বোলিং বিভাগ উভয় ক্ষেত্রেই সংহতভাবে কাজ করেছে। উচ্চ স্কোর গড়তে এবং এরপর যথাযথ বোলিং ও ফিল্ডিং করে দক্ষিণ আফ্রিকার আশা ভাঙা হয়েছে। ভারতীয় দল ২০২৫ সালের শেষের দিকে একটি শক্তিশালী ফর্মে শেষ করেছে এবং নির্দিষ্ট করে দিয়েছে তারা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে মহত্ত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।

 উপসংহার

ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের পঞ্চম টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি ছিল টেস্ট অফ স্কিল, কৌশল ও মানসিক চাপের। ভারতীয় দল প্রতিটি বিভাগে দক্ষতার সাথে ম্যাচটি পরিচালনা করে সিরিজ জয়ের মধ্য দিয়ে ২০২৫ সালটি ইতিবাচকভাবে শেষ করেছে। এই জয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতার জন্য আত্মবিশ্বাসও পেয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট প্রেমীরা নিশ্চিতভাবেই এই ম্যাচটি দীর্ঘ সময় স্মরণে রাখবে।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url