দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি জিতে সমতায় ফিরল দক্ষিণ আফ্রিকা

 



ভারত – দক্ষিণ আফ্রিকা ২য় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ: ম্যাচ রিপোর্ট ও বিশ্লেষণ

২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি (2nd T20I) ম্যাচটি। এই ম্যাচটি নিউ চন্ডীগড়-এর মহারাজা যাদবিন্দ্র সিং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, মুলানপুরে—যেখানে এটি নারীর আন্তর্জাতীয় ম্যাচের পর প্রথমবারের মতো পুরুষদের আন্তর্জাতিক টেস্ট/টি২০ ম্যাচ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল

শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা দল ভারতকে ৫১ রানে পরাজিত করে সিরিজ ১-১ সমতায় আনে। 

🏏 টসে ও ইনিংস পরিকল্পনা

ভারতীয় স্কোয়াডে টসে জিতে ভারত সিদ্ধান্ত নেয় প্রথমে বোলিং করবে। কারণ মাঠে ভেজা অবস্থায় প্রথমে বল করলে শুরুর সময় স্পিনারদের সুবিধা হতে পারে—এমনটাই মনে করেছিলেন ভারতীয় অধিনায়ক। 

এর ফলে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বড় গোলে রান তোলার পরিকল্পনা নেয়। যদিও উইকেট হাঁসফাঁস করা ছিল—তবে Proteas ব্যাটসম্যানরা নিজেদের লক্ষ্য ঠিক রাখতে সক্ষম হয়। 

🥇 দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস (১ম ইনিংস)

দক্ষিণ আফ্রিকা দল ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২১৩ রান সংগ্রহ করে—যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যথেষ্ট বড় স্কোর। 

প্রধান ব্যাটসম্যান পারফরমেন্স

  • কুইন্টন ডি কক (Quinton de Kock) – ৪৬ বল ৯০ রান (৫ ছয় ও ৭ চারের সাহায্যে)। তিনি দলের ইনিংসকে স্থিতিশীলতার সাথে এগিয়ে নিয়ে যান এবং দৃষ্টিনন্দন শটিং করেন। 

  • ডোনোভান ফেরেইরা – ৩০ * (১৬)-এর মতো দ্রুত গতির নট আউট ইনিংস খেলেন এবং রানরেট বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। 

  • ডেভিড মিলারও শেষ পর্যায়ে কিছু দ্রুত রান যোগ করেন। 

এই শক্তিশালী ব্যাটিংয়ের ফলে Proteas সহজেই ২০০ পার করে এবং বিশেষ করে ডি ককের ইনিংস দলে বড় অবদান রাখে। 

🏏 ভারতের ইনিংস (২য় ইনিংস)

ভালো সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা যথেষ্ট রান করতে ব্যর্থ হয়, এবং তারা নির্ধারিত ২০ ওভারও শেষ করতে পারেনি। ভারতের ইনিংসে ১০ উইকেট হারিয়ে তারা ১৬২ রানেই অলআউট হয়ে যায়। 

ভারতের সেরা ব্যাটসম্যান

  • তিলক ভার্মা – ৩৪ বল ে ৬২ রান করে ভারতের পক্ষ থেকে একমাত্র উল্লেখযোগ্য ইনিংস খেলেন। 

  • জিতেশ শর্মা – ১৭ বল ে ২৭ রান করেন, কিন্তু বড় ইনিংস গড়তে পারেননি। 

ভারতীয় ব্যাটসম্যানেরা লক্ষ্য অনুসারে শুরুতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও শেষ দিকে বড় শট নিতে গিয়ে ব্যর্থ হয়। শেষদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা খুবই কার্যকর বোলিং করে—বিশেষ করে অটেনিল বার্টম্যান (Ottneil Baartman)—যিনি ৪ উইকেট নিয়েছেন। 

🎯 ম্যাচের ফলাফল

সর্বশেষে দক্ষিণ আফ্রিকা ৫১ রানে জয়ী হয় এবং সিরিজকে ১-১ সমতায় আনতে সক্ষম হয়। 

🎖️ প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ:

কুইন্টন ডি কক – তার দ্রুতগতির ৯০ রান ম্যাচের ভাগ্য বয়ে নিয়ে আসে। 

📊 খেলার মূল কারণ ও বিশ্লেষণ

১. দক্ষিণ আফ্রিকার শক্তিশালী ব্যাটিং

Proteas ব্যাটিংয় প্রবল আত্মবিশ্বাস দেখিয়ে স্কোরবোর্ডে ২০০+ রান তুলতে সক্ষম হয়েছিলো—যা টি-টোয়েন্টি খেলায় সাধারণত জয়ের জন্য বড় স্কোর হিসেবে বিবেচিত।

ডি ককের বিরাট ইনিংসটি তাদের ইনিংসের ভিত্তি তৈরি করে, আর ফিনিশার হিসেবে ফেরেইরা ও মিলারই গতি ধরে রাখতে সাহায্য করেন। 

২. ভারতীয় ব্যাটিং ব্যর্থতা

ভারত লক্ষ্য অনুযায়ী যথেষ্ট স্থির শুরু করার পরও বড় শট নিতে গিয়ে উইকেট হারায় এবং শেষদিকে নিয়মিতভাবে উইকেট পড়ে যায়। বড় স্কোরের চাপ সামলে নিতে ব্যর্থ হওয়াই ভারতের জন্য হারের অন্যতম প্রধান কারণ।

৩. বোলিং ও মাঠের অবস্থা

দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে মাটিতে বলের লাইন ও লেংথ ভাল রেখেছিল এবং ভারতের ব্যাটিং লাইন-আপকে অনেক সমস্যায় ফেলেছিল। যেমন, বার্টম্যান, জেনসেন, সিপামলা, ন্গিডি—এদের বোলিং ভারতের ব্যাটসম্যানদের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। 

শেষ কথা

এই ম্যাচটি ছিল টি-টোয়েন্টি সিরিজের অন্যতম উত্তেজনাপূর্ণ এবং সমান প্রতিযোগিতামূলক লড়াই, যেখানে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে ভারতীয় দল চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেও বড় জয় পায়নি। দক্ষিণ আফ্রিকার ঐক্যবদ্ধ ব্যাটিং ও কার্যকর বোলিং ভারতকে হারিয়ে সিরিজে সমতা এনে দেয়। 

এখন সিরিজের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে কে কোথায় কতটা দলীয় পরিকল্পনা পরিবর্তন করে খেলবে—তাই আসল আকর্ষণ


আরো পড়ুন: ভারত দক্ষিণ আফ্রিকা তৃতীয় ও চতুর্থ টি-টোয়েন্টির ফলাফল

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url