দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি জিতে সিরিজে সমতা আনলো বাংলাদেশ
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল ও আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট দল-এর ২য় টি-২০ ম্যাচ — যেখানে বাংলাদেশের জয় হয়েছে এবং সিরিজ সাময়িকভাবে ১-১ সমান হয়েছে।
উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ ও ভেন্যু
প্রথম ম্যাচে ৩৯ রানে হারার পর বাংলাদেশের জন্য এই ম্যাচ ছিল সিরিজ ফিরিয়ে আনার এক বড় সুযোগ।
আইরিশরা টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০ ওভারে তারা ৬ উইকেটে ১৭০ রান সংগ্রহ করে।
আয়ারল্যান্ডের ইনিংস — ১৭০/৬
আইরিশ ব্যাটিংয়ে দল হিসাবে মোট ১৭০ রান আসে। তাদের কিছু ব্যাটারই ভালো শুরু করেছিল — কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলের স্কোর ২০০–র ওপরে না গড়াতে পারেনি।
বাংলাদেশের চড়া ব্যাটিং চ্যালেঞ্জ ও উত্তেজনাপূর্ণ ধাওয়া
বাংলাদেশের সামনে ছিল ১৭১ রানের লক্ষ্য। শুরু থেকে চাপ ছিল, কিন্তু ব্যাটিং-অভিযান শুরু হয় ভালোভাবে।
ম্যাচের নায়ক হিসেবে ব্রিলিয়েন্ট ফিফটি করেন লিটন দাস — ৩৭ বল মেরে ৫৭ রান (৩ চার + ৩ ছয়)। এই ইনিংস ছিল তাঁর ১৬তম টি-২০ আন্তর্জাতিক অর্ধশতক।
তার সঙ্গে পারভেজ হোসেন ইমন — ২৮ বল থেকে ৪৩ রান (৫ চার + ২ ছয়) — যা চেজকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কিন্তু শেষ তো অলরেডি ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। ১৯তম ওভারে বাংলাদেশের পঞ্চম উইকেট পড়ার পর, ১৪ বল হাতে ছিল, আর প্রয়োজন ছিল ২২ রানের। সামনে ছিল চাপ।
এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন — ৭ বল পরে ১৭* রান দিয়ে দলকে জয়ের দিকে ঠেলে দেন, যেখানে তার এক ছয় আর এক চার ছিল। শেষ ওভারের প্রথম বলেই একটি ছয় হাঁকান; এরপর আরও একটি চার।
শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল মাত্র ৩ রান; শেষটাই যেন ছিল নাটকীয় — দুই বল আগে এক চমৎকার স্ট্রোক দিয়ে বাংলাদেশ ৪ উইকেটে, ১৯.৪ ওভারে ১৭৪/৬ তে পৌঁছে যায়।
বোলিং — আয়ারল্যান্ডকে ভালোভাবে সীমিত করল বাংলাদেশ
ইনিংস শুরুতে আয়ারল্যান্ড কিছুটা ভালো শুরু করলেও, মাহেদি হাসান ৩ উইকেট নিয়ে ইরিশ ব্যাটিংকে সফলভাবে চাপে ফেলেন।
এছাড়া, দলের বাকি বোলাররাও সময়মতো উইকেট তুলে ব্যাটিংয়ের রিদম ভাঙাকে কাজে লাগান — যা শেষ পর্যন্ত ১৭০ রানের সংগ্রহে সীমাবদ্ধ করে।
ম্যাচের গুরুত্ব ও প্রতিক্রিয়া
এই জয়ের সঙ্গে, বাংলাদেশ তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজে ১-১ সমান করেছে।
প্রথম ম্যাচে ব্যর্থতার পর ২য় ম্যাচে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে, মানসিক চাপ মোকাবিলা করে আর এক উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে জিতেছে। বিশেষত, শেষ ওভার পর্যন্ত লড়াই হওয়া আর শেষ দুই বলেই জয় নিশ্চিত হওয়া — সেটা ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য রোমাঞ্চকর ছিল।
যারা খেলাটি দেখেছেন — তারা নিশ্চয়ই জানেন শেষ মুহূর্তের সেই উত্তেজনা: ১৪ বল হাতে ও ২২ রান দরকার, তবুও লিটন-ইমন-সাইফুদ্দিনের সাহস আর ধৈর্য্য মিলিয়ে শেষ ওভারে জয়ের দরজা খুলে দিল।
ভবিষ্যৎ দিকে চোখ
৩য় ও শেষ টি-২০ ম্যাচটি এখন সিরিজের ভাগ্য নির্ধারক হবে। এমন জয়ের পর বাংলাদেশের দলে আত্মবিশ্বাস দেখা দিয়েছে। আয়ারল্যান্ডও দেখাবে, তারা কি আবার চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট ভক্তদের জন্য এই ম্যাচ ছিল আশা ও উত্তেজনায় ভরা। চট্টগ্রামের দর্শকরা এবং যারা টিভি/লাইভ-স্ট্রিমিংয়ে দেখেছেন — সবাই শেষ মুহূর্তের সেই নাটক উপভোগ করেছেন।
সবশেষে অভিজ্ঞতায় আর চাপ সামলায় জয় পেয়ে। ওভারের সঠিক ব্যবহারে, প্রেসার বুকে ধাওয়া চালিয়ে — বাংলাদেশ জিতেছে।
