অ্যাশেজ সিরিজ ২০২৫-২৬ এর সময়সূচি
নিচে অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের ২০২৫-২৬ অ্যাশেজ সিরিজ সম্পর্কে বিস্তারিত এক আর্টিকেল দেওয়া হলো — বাংলা ভাষায়:
ভূমিকা
টেস্ট ক্রিকেটের প্রাচীন এবং মর্যাদাসম্পন্ন প্রতিযোগিতা অ্যাশেজ সিরিজ একজন ক্রিকেট ভক্তের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা অধিকার করে রেখেছে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে আবার ফিরে আসছে অস্ট্রেলিয়া বনাম ইংল্যান্ডের এই ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ। এই সিরিজটি কেবল দুই দেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (WTC) এর প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্ব পেতে পারে।
সিরিজের সময়সূচী ও ভেন্যু
২০২৫-২৬ অ্যাশেজ সিরিজ মোট ৫টি টেস্ট ম্যাচে অনুষ্ঠিত হবে। তারিখ এবং ভেন্যু নিম্নরূপ:
-
প্রথম টেস্ট: ২১–২৫ নভেম্বর ২০২৫, পার্থ স্টেডিয়াম, পার্থ।
-
দ্বিতীয় টেস্ট: ৪–৮ ডিসেম্বর ২০২৫, গাব্বা (দ্য গাব্বা), ব্রিসবেন — এক দিন-রাত (day-night) ম্যাচ।
-
তৃতীয় টেস্ট: ১৭–২১ ডিসেম্বর ২০২৫, অ্যাডিলেড ওভ্যাল, অ্যাডিলেড।
-
চতুর্থ টেস্ট (বক্সিং ডে): ২৬–৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড (MCG), মেলবোর্ন।
-
পঞ্চম এবং শেষ টেস্ট (নিউ ইয়ারস টেস্ট): ৪–৮ জানুয়ারি ২০২৬, সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ড (SCG), সিডনি।
এই শিডিউল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার “সাত বছরের পরিকল্পনা” (seven-year scheduling plan) এর অংশ, যা আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে পূর্বাভাসযোগ্যতা এবং ভ্রমণ পরিকল্পনা সহজ করতে সাহায্য করে।
সিরিজের প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব
-
আসন নিম্নলিখিত: অস্ট্রেলিয়া এই সিরিজে অ্যাশেজ ধরে রাখার চেষ্টা করবে, কারণ তারা আগেও ধারাবাহিকভাবে এই প্রতিযোগিতায় শক্তিশালী দেখা গেছে।
-
WTC প্রভাব: এটি ২০২৫–২০২৭ সালের ICC World Test Championship চক্রের অংশ সিরিজে ভালো পারফরম্যান্স দলের জন্য WTC পয়েন্ট জিততে সহায়ক হতে পারে, যা ভবিষ্যতে ফাইনালে জায়গা গড়ার দিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
-
নতুন ভেন্যু পছন্দ: সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো প্রথম টেস্ট পার্থে — পার্থ স্টেডিয়ামে অ্যাশেজের ওপেনার হবে, যা ঐতিহ্যগতভাবে গাব্বায় শুরু করার ধরণ থেকে আলাদা।
-
দুপুর-রাত ম্যাচ: গাব্বা (দ্য গাব্বা), ব্রিসবেনে দ্বিতীয় টেস্ট ডে-নাইট ফরম্যাটে আয়োজন করা হয়েছে, যা দর্শক এবং মিডিয়া প্রভাব বাড়াতে পারে।
ইংল্যান্ডের দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রস্তুতি
-
ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড (ECB) তাদের সিরিজ স্কোয়াড এবং পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে।
-
কোচ এবং ম্যানেজমেন্ট বোর্ড শক্তি ও দুর্বলতা নির্ধারণে কাজ করছে, বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট জয়ের জন্য প্রস্তুতি প্রয়োজন।
-
ইংল্যান্ডকে চ্যালেঞ্জ করবে অস্ট্রেলিয়ার দ্রুত গত বোলিং অ্যাটাক এবং সাবলীল ব্যাটিং স্টাইল, যেগুলো তাদের গত অ্যাশেজ সিরিজে বড় ভূমিকা রেখেছে। কিছু বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলছেন ইংল্যান্ডের প্রস্তুতির পরিমাণ নিয়েও: ইংল্যান্ডের দল মাত্র একটি ওয়ার্ম-আপ ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়ায় সিরিজ শুরুর আগে, যা অনেকের মতে প্রস্তুতির জন্য অপর্যাপ্ত হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি
-
অস্ট্রেলিয়া এই সিরিজে তাদের দখল বজায় রাখতে চায় এবং পার্থ ও গাব্বা সহ তাদের হোম ভেন্যুতে দাপট দেখাতে বিচক্ষণতা রাখবে।
-
তাদের স্কোয়াডে সিনিয়র এবং অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সমন্বয় রয়েছে, যারা দীর্ঘ টেস্ট সিরিজে স্থায়ীত্ব নিশ্চিত করতে পারে।
-
হোম সুবিধা এবং উত্সাহী স্থানীয় ম্যাচ ফ্যানবেস তাদের শক্তি আরও বাড়াতে সক্ষম।
সম্ভাব্য প্রভাব ও অবস্থা
-
ক্রিকেট ভক্তদের জন্য উৎসব: পাঁচ ম্যাচের সিরিজ হওয়ায় ভক্তদের জন্য অনেক উত্তেজনা থাকবে — পার্থ থেকে মেলবোর্ন, তারপর সিডনি পর্যন্ত ভ্রমণ প্রবণতা এবং দর্শক সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে।
-
বাণিজ্যিক মূল্যায়ন: এই সিরিজের টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার অধিক লাভজনক হতে পারে, বিশেষ করে দিনের এবং রাতের টেস্ট মিলিয়ে।
-
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় প্রভাব: ক্রিকেট বোর্ড ও ICC ভবিষ্যতে এমন সিরিজ ফ্রিকোয়েন্সি বৃদ্ধি করতে পারে — ২০২৭-এর পর ভবিষ্যৎ ট্যুর প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে। The Guardian জানিয়েছে যে, ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ এবং ICC “বড় তিন (অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারত)” দেশের মধ্যে টেস্ট বিভাগ বিভাজনের পরিকল্পনায় কথা বলছে, যা ভবিষ্যতে আরো বাণিজ্যিক এবং প্রতিযোগিতামূলক সিরিজ আনতে পারে।
চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
-
ইংল্যান্ডের প্রস্তুতির অভাব: সীমিত ওয়ার্ম-আপ ম্যাচ ও অস্ট্রেলিয়ার কঠিন কন্ডিশনে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মানিয়ে নেওয়া সহজ হবে না।
-
আবহাওয়া ও কন্ডিশন: বিভিন্ন ভেন্যুতে ভিন্ন উইকেট ও আবহাওয়া থাকবে — পার্থ, ব্রিসবেন, অ্যাডিলেড, মেলবোর্ন ও সিডনিতে ব্যাটিং এবং বোলিং উভয় দিকেই আলাদা চ্যালেঞ্জ থাকবে।
-
চাপ ও প্রত্যাশা: অ্যাশেজ হলো পারস্পরিক গৌরব ও ইতিহাসের লড়াই — খেলোয়াড়দের উপর মানসিক চাপ অনেক বেশি থাকবে, বিশেষত সিরিজ শুরুতে এবং মিড পর্বে।
উপসংহার
২০২৫-২৬ সালের অ্যাশেজ সিরিজ শুধুমাত্র একটি সাধারণ টেস্ট সিরিজ নয় — এটি ঐতিহ্য, প্রতিযোগিতা এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনার এক গম্ভীর মঞ্চ। অস্ট্রেলিয়া তাদের ঘরোয়া শক্তি কাজে লাগাতে চায়, আর ইংল্যান্ড চাইবে ঐতিহাসিক জয় এনে দীর্ঘ সময় ধরে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে। দর্শক, ক্রিকেট বিশ্লেষক, এবং ফ্যান সবাই এই সিরিজের দিকে কৌতূহল ও উত্তেজনায় তাকিয়ে রয়েছে।
এই সিরিজটি সফল হলে, ভবিষ্যতে অ্যাশেজ বা অন্যান্য বড় টেস্ট সিরিজের ফ্রিকোয়েন্সি ও পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে চ্যালেঞ্জ কম নয় — ইংল্যান্ডকে ওয়ার্ম-আপ কম, কঠিন কন্ডিশন এবং অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া দাপট মোকাবিলা করতে হবে।
আরো পড়ুন: অ্যাশেজ প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার জয়
.
