শ্রীলংকার বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করল পাকিস্তান
২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে পাকিস্তান সঙ্গে শ্রীলঙ্কার মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ান-ডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় রাওয়ালপিন্ডিতে। এই ম্যাচে পাকিস্তান ৮ উইকেটে জয় অর্জন করে এবং সিরিজে ২-০ নেতৃত্ব গড়েছে।
ম্যাচ পরিস্থিতি ও স্কোরকার্ড
-
শ্রীলঙ্কা ইনিংস: তারা নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৮ রান করতে সক্ষম হয়।
-
পাকিস্তান ইনিংস: জবাব দিতে নামা পাকিস্তান ৪৮.২ ওভারে মাত্র ২ উইকেটে ২৮৯ রান করে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়।
-
পাকিস্তান এই লক্ষ্য তাদের বাঁয়ে রেখে দেয়, অর্থাৎ ১০ বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে।
একজন একনায়ক: বাবর আজম
এই ম্যাচে প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ হন পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম, যিনি **১১৯ বল মোকাবেলায় অপরাজেয় ১০২ রান করেন।
এই শতক তাঁর ওডিআই ক্যারিয়ারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, কারণ এটি সিরিজ জয়ের পথ সুগম করে।
গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ ও অবদান
-
ফখর জামান: বাবরের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ফখর ৭৮ রান (প্রায় ৯৩ বল) করেন এবং তার দিকে থাকা ছন্দ পাকিস্তানকে শুরু থেকেই প্রগতিশীল পথ দেখায়।
-
মোহাম্মদ রিজওয়ান: ফখর আউট হবার পর বাবরের সঙ্গে তিনি একটি দৃঢ় ১১২ রানের অপ্রতিরোধ্য জুটিতে অবদান রাখেন। রিজওয়ান অপরাজিত থেকে ৫১ রান করেন এবং বিজয় নিশ্চিত করায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
শ্রীলঙ্কার পারফরম্যান্স
-
শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংয়ে জানিথ লিয়ানাগে ছিলেন দলের অন্যতম আলোছায়ার খেলোয়ার; তিনি ৫৪ রানে একটি মাঝারী ইনিংস খেলে দলের সংগ্রহ তৈরি করে।
-
কমিন্দু মেন্ডিস একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার ছিলেন, যিনি ৪৪ রান করেন।
-
ওয়ানিন্দু হাসরাঙ্গা শেষ দিকে কিছুটা ধাক্কা দিয়ে ৩৭ রানে অপরাজিত ছিলেন, তবে পুরো দল একটি বড় চ্যালেঞ্জ গড়তে পারেনি।
প্রতিপক্ষকে সীমিত রাখতে পাকিস্তানের বোলিংও কার্যকর ছিল। হারিস রাউফ এবং আবরার আহমেদ দুই জনই তিনটি করে উইকেট নেন।
নিরাপত্তার প্রেক্ষাপট
এই সিরিজের পটভূমিতে একটি সংবেদনশীল বিষয় ছিল — ঘটনা হলো, শ্রীলঙ্কার সফরের সময় ইসলামাবাদে একটি আত্মঘাতী বোমা হামলা ঘটে। কিছু শ্রীলঙ্কান খেলোয়াড় নিরাপত্তা উদ্বেগ তুলে ধরেছিলেন এবং দেশে ফিরে যেতে চেয়েছিলেন, তবে তাদের ক্রিকেট বোর্ড তাদের থাকতে নির্দেশ দেয়। পাকিস্তান এই বিষয়ে সেনাবাহিনী ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করে দলকে সুরক্ষা দেয়।
সর্বশেষে, পাকিস্তান এই সিরিজে একদমই ঝুঁকি নিয়ে এগিয়েছে এবং তাদের ক্রিকেট বোর্ড ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর যৌথ পরিকল্পনা এই জয়কে সম্ভব করে তোলে।
সার্বিক মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
-
পাকিস্তানের জন্য এটি একটি শক্তিশালী জয় ছিল। মাত্র ২ উইকেটে এবং অনেক বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করা প্রমাণ করে যে তাদের ব্যাটাররা চাপ সামলাতে সক্ষম।
-
বাবর আজমের শতক এবং তার সঙ্গে রিজওয়ানের অর্ধশতক দুই জনের মেধা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরে।
-
শ্রীলঙ্কার কিছু ব্যাটার ভালো শুরু দিয়েছিল, যদিও তারা প্রায় ৩০০ রানের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।
-
এই সিরিজ জয় পাকিস্তানের জন্য আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে, বিশেষ করে তাদের হোম সিরিজে ভালো খেলাধুলা করার লক্ষ্যে।
-
নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা গেলে, শ্রীলঙ্কার সফর এবং তারপরও তারা তিন ম্যাচের সিরিজ খেলতে চাওয়া প্রমাণ করে দুই দেশের মধ্যে ক্রিকেট ও কূটনৈতিক সম্পর্কেও কিছুটা স্থিতিশীলতা রয়েছে।
