দ্বিতীয় ওয়ানডে: বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০২৫

 



বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট টিম — ২০২৫ সালের সিরিজের ২য় ওয়ানডে (ODI)

২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইনডিজের মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা’র শেরেবাংলা ন্যাশনাল স্টেডিয়াম–এ (মিরপুর)। এই ম্যাচটি সিরিজে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংযোজন করেছিল — শুধু ফলাফল নয়, ক্রিকেট কৌশল ও পরিবেশকেও উদ্ভাবনী রূপ দিয়েছিল।

ম্যাচের সারাংশ

  • টস জিতে বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নায়। 

  • বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয় ২১৩/৭ (৫০ ওভার) স্কোরে। 

  • ওয়েস্ট ইনডিজও একই স্কোরে পৌঁছে যায়—২১৩/৯ (৫০ ওভার)—ফলে গড়ায় টাই। 

  • তবে ম্যাচটি সুপার ওভারে গড়ায় এবং সেখান থেকে ওয়েস্ট ইনডিজ এক রানের ব্যবধানে জয় পায়। 

ইনিংস বিশ্লেষণ

বাংলাদেশ ইনিংস

বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করে শক্ত সূচনা করতে পারেনি — ওপেনিংয়ে দ্রুত উইকেট হারিয়েছে। তবে এরপর কিছু মিডল অর্ডার ব্যাটার ভালো ভাবে অবদান রাখে।

  • সৌম্য সরকার ৪৫ রানের ইনিংস খেলেন, যা ইনিংসের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত স্কোর। 

  • সবচেয়ে ধ্রুব “হিরো” হয়ে উঠে যান রিশাদ হোসেন— মাত্র ১৪ বল খেলে ৩৯* রানের রেকর্ড গড়েন; দ্রুত শেষ ওভারে বড় ধাক্কা দিয়েছেন। 

  • পুরো দল শেষে ৫০ ওভারে ২১৩/৭ করে, যা পরিপ্রেক্ষিতে যথেষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি স্কোর।

বাংলাদেশের ইনিংসের বিশেষ দিক ছিল শেষ দুই ওভারে অধিক রান সংগ্রহ — পরিসংখ্যান অনুযায়ী শেষ দুই ওভারে ৩৪ রান এসেছে, যা ইনিংসকে ২০০-এর ওপরে নিয়ে গেছে। 

ওয়েস্ট ইনডিজ ইনিংস

টার্গেট ছিল ২১৪ রানের; চ্যালেঞ্জপূর্ণ হলেও সম্ভব দেখাচ্ছিল। ওয়েস্ট ইনডিজের ব্যাটিংয়ে কিছু ভালো অংশ ছিল:

  • শাই হোপ ইতিবাচক ইনিংস খেলেন — ৫৩ রানে অপরাজেয় থাকেন। 

  • কেসি কার্টি ও অন্যান্য যারা এক-দুটি ভালো শট খেলেছেন, তবে ইনিংস শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে থামে।

আকর্ষণীয় ছিল যে, ওয়েস্ট ইনডিজ পুরো ইনিংস বল করেছে শুধু স্পিনার দিয়ে — এমনটা ODI ইতিহাসে খুব কমই দেখা গেছে। 

ম্যাচের বিশেষ দিক ও উদ্ভাবন

  • স্পিন বোর্ডা: ওয়েস্ট ইনডিজ প্রথম দল হিসেবে এক ম্যাচে পুরো ৫০ ওভার শুধু স্পিন বোলার দিয়ে বল করেছে। এটি ছিল এক অভিনব কৌশল। 

  • পিচ ও পরিবেশ: মিরপুরের পিচে স্পিনারদের জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ ছিল — তাই উভয় দলেই কয়েকজন স্পিনার খেলেছে। বাংলাদেশও একমাত্র পেসার নিয়েছিল, বাকিরা স্পিন দিয়ে বল করেছে। 

  • শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা: ইনিংস শেষের দিকে দ্রুত রান তুলে বাংলাদেশ একটি ভালো স্কোর দিয়েছিল। এরপর ওয়েস্ট ইনডিজও শেষ ওভারগুলোয় খেসারত করেছে।

ফলাফল ও তাৎপর্য

এই ইনিংসের শেষে দেখা যায়, যদিও বাংলাদেশ ইনিংস শুরু ভাবনায় ছিল না, শেষমেশ ভালো সংগ্রহ করেছে। কিন্তু ওয়েস্ট ইনডিজও মোটামুটি ভালো দায়িত্ব পালন করেছে ও সিরিজে লড়াইয়ের সুযোগ ধরে নিয়েছে।
ফলে:

  • সিরিজের অবস্থান হয়েছে ১-১ (২য় ম্যাচেই) — ফলে তৃতীয় ও ডিসাইডার ম্যাচের চাপ বাড়েছে।

  • বাংলাদেশের জন্য ছিল সুযোগ সিরিজ জিতে রাখার; ওয়েস্ট ইনডিজের জন্য ছিল ফিরে আসার সুযোগ।

  • স্পিন-শাসিত ম্যাচে দলগুলোর স্পিন বোলিং পরিকল্পনা ও বাঁকা শট খেলার দক্ষতা গুরুত্ব পেয়েছে।

উপসংহার

২০২৫ সালের এই ২য় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইনডিজের লড়াই ছিল উত্তেজনাপূর্ণ আর কৌশলগতভাবে বেশ সমৃদ্ধ। বাংলাদেশের অর্জিত স্কোর ছিল সুশৃঙ্খল ও দায়বদ্ধ; ওয়েস্ট ইনডিজের খেলা ছিল ধৈর্যশীল আর পরিকল্পনামূলক। তবে শেষ পর্যন্ত, সামান্য ব্যবধানে ওয়েস্ট ইনডিজ জিতে সিরিজে নতুন মাত্রা আনলো।

আগামী তৃতীয় ম্যাচে চমক অপেক্ষা করছে — দুই পক্ষই চাইবে জয়ের দিকে এগিয়ে যেতে। ক্রিকেটপ্রেমীরা নিশ্চয়ই আগ্রহ নিয়ে দেখছেন, কিভাবে বাংলাদেশ নিজেদের সুযোগ সফল করছেন।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url