ভারত বনাম শ্রীলংকা সুপার ফোর শেষ ম্যাচ: এশিয়া কাপ ২০২৫
নিচে ২০২৫ সালের এশিয়া কাপ টুর্নামেন্টে ভারত ও শ্রীলঙ্কা দলের মধ্যে সুপার ফোর পর্যায়ে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ফলাফল, ঘটনাবলি ও বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো — বাংলা ভাষায়:
ম্যাচের সারসংক্ষেপ ও ফলাফল
২০২৫ সালের এশিয়া কাপের সুপার ফোর পর্বে ভারত ও শ্রীলঙ্কার ম্যাচ, ভারতের অংশগ্রহণকারী ম্যাচটি ছিল নিয়মরক্ষার — অর্থাৎ যে দুই দল ইতিমধ্যে তাদের অন্তত এক পক্ষ ফাইনালে উঠার শর্ত পূরণ করেছে।
তবে ম্যাচটি অপ্রত্যাশিত উত্তেজনায় পরিণত হয় কারণ দুই দলই ২০ ওভারে ২০২ রান সংগ্রহ করে সমভাবে ম্যাচ শেষ করে দেয়। ফলে ম্যাচ নির্ধারণ করতে গড়ায় সুপার ওভারে।
সুপার ওভারে ভারতের বোলার আর্শদীপ সিং দুর্দান্তভাবে বল করে শ্রীলঙ্কাকে মাত্র ২ রানেই সীমাবদ্ধ রাখেন— মাত্র পাঁচ বলের মধ্যে দুই উইকেট তুলে নিয়ে। এরপর ভারত দ্রুত সেই লক্ষ্য পূরণ করে— অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব প্রথম বলেই শূন্য সময় গড়ায় রান নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন।
সুতরাং, ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফল হলো:
-
ভারত: ২০২/৫ (২০ ওভার)
-
শ্রীলঙ্কা: ২০২/৫ (২০ ওভার)
-
সুপার ওভার শেষে: ভারত জয়ী
এইভাবে ভারত সুপার ওভারে জিতে সুপার ফোর স্টেজে অপরাজিতভাবেই এগিয়ে যায়।
ম্যাচের মূল হাইলাইটস ও উদ্ভাসিত মুহূর্ত
পাথুম নিসানকা’র শতক
শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যান পাথুম নিসানকা এই ম্যাচে একটি চমৎকার শতক হাঁকান — এ সেই শতক ছিল টুর্নামেন্টে প্রথম শতক। তাঁর ইনিংস শ্রীলঙ্কাকে ম্যাচে টেনে আনতে অগ্রণী ভূমিকা রাখে।
তবে, এই শতক শ্রীলঙ্কাকে জয় এনে দিতে যথেষ্ট ছিল না, কারণ সুপার ওভারে ভারতের দক্ষতা, চাপের মুহূর্তে ধৈর্য ও বোলিং ইউনিটের কার্যকরী পারফরম্যান্স তাঁদের পিছিয়ে পড়ে।
ভারতের ব্যাটিং ও কৌশল
ভারত এই ম্যাচে ২০২/৫ রানে ইনিংস শেষ করে। তাদের ইনিংসে অভিষেক শর্মা ৩১ বলেই ৬১ রান করেন — একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপকার ইনিংস ছিল। এছাড়া টিলক ভার্মা অনবদ্য ছিলেন (৪৯*, অপরাজিত) এবং সানজু স্যামসন ৩৯ রান যোগ করেন।
এই ইনিংসই এমন ছিল যে সঠিক ও প্যাট সময়ে উইকেট পেয়েও ভারত সংগ্রহকে সামলাতে সক্ষম হয়।
সুপার ওভারে ভারতের চাপমুক্ত পারফরম্যান্স
সুপার ওভার মুহূর্তে ভারতীয় দল দেখায় যে তারা বড় ম্যাচের চাপ মোকাবেলায় কতটা সজাগ। আর্শদীপ সিং-এর বোলিং ও সূর্যকুমার যাদবের দ্রুত রান উত্তোলন— এ সংমিশ্রণই ভারতের জয় নিশ্চিত করে।
ফলপ্রসুতা ও অর্থে এই ম্যাচের গুরুত্ব
যদিও ভারত ইতিমধ্যে ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল, এই ম্যাচটি ছিল তাদের জন্য গৌরবকুরিত একটি রূপক প্রচার। কারণ:
-
মনোবল ও আত্মবিশ্বাস
এমন একটি ম্যাচে যারা দক্ষতা ও মানসিক শক্তিতে এগিয়ে থাকে — তারাই আধিপত্য গড়তে পারে। ভারত এই জয়ের মাধ্যমে মঞ্চ তৈরি করল ফাইনালে আরও আত্মবিশ্বাস নিয়ে নামার জন্য। -
পরিকল্পনার ফলাফল
এমন ম্যাচে ভয়ঙ্কর ব্যাটিং, সঠিক সময়ে বলবিন্যাস, এবং চাপমুক্ত পারফরম্যান্স — এসব এটিই ভারত দেখিয়ে দিল। -
শ্রীলঙ্কার জন্য শোক ও শিক্ষা
শ্রীলঙ্কা যদিও ইনিংসে ভালো লড়াই করে, তবে ফলাফলই বলল যে বড় ম্যাচে সামলানো গুণ ও ফলাফলে ধৈর্য কতটা আবশ্যক। -
দর্শক ও উৎসাহবৃদ্ধি
এমন ম্যাচ পরিস্কার করে দেয় ক্রিকেট শুধু স্কোরবোর্ড যুদ্ধ নয় — এটি উত্তাল মেজাজ, নাটক ও অনিশ্চয়তার মঞ্চও। দর্শকরা একে স্মরণ রাখবে দীর্ঘদিন।
সামগ্রিক চিত্র ও প্রতিযোগিতার পরিপ্রেক্ষিত
এশিয়া কাপ ২০২৫-এ ভারত একটি শক্তিশালী দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে — সব ম্যাচ জিতে ফাইনালে পৌঁছেছে।
শ্রীলংকার ব্যাটিং পর্যায়ে হালকা ব্যর্থতা ও নির্ধারিত মুহূর্তে পর্যাপ্ত সমর্থন না পাওয়া— এ কারণেই তাদের শেষ পথে হার হয়েছে।
ফাইনালে ভারত খেলবে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। ৪১ বছর পর ভারত পাকিস্তান এশিয়া কাপের ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।
